ফখরুল-আব্বাস যেকোনো সময় মুক্তি পাবেন

0
53

আদালত প্রতিবেদক : আপিল বিভাগ হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রাখার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের পক্ষে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে জামিননামা দাখিল করেছেন আইনজীবীরা।

আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ জানান, গত রোববারই তারা আদালতে জামিননামা দাখিলের জন্য আবেদন জমা দিয়েছিলাম। সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান নুর অনুমতি দিয়েছেন। এরপর তারা জামিননামা দাখিল করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আদালতের রিলিজ আদেশ কারাগারে পৌঁছেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এখন যেকোনো সময় তারা মুক্তি পাবেন।

এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর রাতে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে আটক করে পুলিশ। এর পর গত ৯ ডিসেম্বর আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর সিএমএম আদালতে ৩ দফা এই দুই নেতার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। পরে মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়। গত ২১ ডিসেম্বর মহানগর দায়রা জজ আদালতও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়।

এরপর গত ৩ জানুয়ারি বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। একই সঙ্গে কেন তাদের স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন আদালত।

পরে ৪ জানুয়ারি সকালে তাদের জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত জামিন স্থগিত করে গত ৮ জানুয়ারি শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। ওইদিন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ পুলিশের ওপর হামলার পরিকল্পনা ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে পল্টন থানায় করা মামলায় মির্জা ফখরুল ও দলটির মির্জা আব্বাসের জামিন বহাল রাখেন।

গত ৭ ডিসেম্বর পুলিশের অভিযান চলাকালে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ ৪৫০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে রিজভী, অ্যানিসহ ৪৩৪ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়। অপর ১৪ আসামির দুই দিনের রিমান্ড এবং বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান ও আব্দুল কাদের জুয়েলের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

ফখরুল ও আব্বাসের কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, গত ৭ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ৩৫ মিনিট থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশকে আক্রমণ করে। ক্ষতি সাধনের জন্য জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিসহ ব্যক্তি বা জনগণের সম্পত্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এই ঘটনায় উপ-পুলিশ কমিশনার মতিঝিল বিভাগ ও অতিরিক্ত কমিশনার মতিঝিল জোনসহ অনেক পুলিশ সদস্য আহত হয় এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি সাধন হয়। মামলাটি তদন্তকালে মির্জা ফখরুল ও আব্বাস ওই ঘটনার পরিকল্পনাকারী, উসকানিদাতা এবং নির্দেশদাতা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here