লিঙ্গবৈষম্যের সুখ-অসুখ

0
322

সামিউল হক ভূঁইয়া:
প্রথমত মনে রাখা জরুরি যে নারী কোনো বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন গোষ্ঠী নয়, নারীর ততটুক সুবিধা বা আনুকূল্য পাওয়া উচিত যতটা একজন মানুষ পেতে পারে। নারীর জন্য স্বাধীন, প্রভাবহীন, অনুকূল পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়াকে মোটামুটিভাবে নারীমুক্তি বলা যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে ধরে নিই, নারী একটি সাদা পর্দা এবং তার সামনে বিভিন্ন রঙের বেশ কিছু লাইট আছে। এই নানান রঙের লাইটের আলো সাদা কাপড়টির সাদা রঙকে বিকৃত করছে। যখন এই নানান রঙের আলোর প্রভাব থেকে নারী মুক্ত হবে তখনই ঘটবে নারীমুক্তি। অনেকটা এমন বলা যেতে পারে।

এবার আসি একটি সহজ অংকে। সামগ্রিকভাবে নারীর বর্তমান অবস্থাকে যদি আমরা লিঙ্গবৈষম্য হিসেবে ধরে নিই তাহলে দেখা যাবে যে, নারী বৈষম্য চলমান থাকাতে নারী এবং পুরুষ উভয়েরই কিছু সুবিধা রয়েছে। যেমন পুরুষ পারছে নারীর উপর কর্তৃত্ব দেখাতে, প্রভাববিস্তার করতে, স্বেচ্ছাচারিতায় মগ্ন থাকতে; পক্ষান্তরে নারীর সুবিধাগুলো হচ্ছে অনেকটা এরকম, তুলনামূলক নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করছে, বাইরের পৃথিবীর কথা ভাবতে হচ্ছে না, অর্থ উপার্জন নিয়েও ভাবতে হচ্ছে না, এক ধরণের নিরাপত্তাও বোধ করছে পুরুষ বেষ্ঠনীতে থাকবার কারণে।

অন্যদিক থেকে দেখলে, লিঙ্গবৈষম্যের কারণে নারীর পাশাপাশি পুরুষেরও বিড়ম্বনার শেষ নেই। যেমন দেখা যায়, নারীকে যেহেতু বাইরের কাজে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা প্রয়োজন, তাই যত কিছুই ঘটুক না কেন বাইরের কাজগুলো অগত্যা পুরুষদের কাঁধে এসেই বর্তায়। কিন্তু পুরুষ এসব ঝামেলা মাথায় নিয়ে হলেও সে তার কর্তৃত্ব চায়, পক্ষান্তরে নারী তার প্রতি অন্যায় মেনে নিয়ে হলেও নিশ্চিন্ত আর নির্ভেজাল জীবনকে যাপন করতে চায়। এক ধরণের নিরাপত্তা বলে মনে করে। খাঁচার পাখি খাঁচায় বসবাসকে যেমন নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা বলে ভাবে- অনেকটা তাই।

এক কথায় বলতে গেলে, লিঙ্গবৈষম্যের কারণে নারী এবং পুরুষ উভয়েই তাদের সুবিধা গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, এ অভ্যস্ততা দীর্ঘদিনের অনেকটা অভিযোজনের মতো। কিন্তু প্রকৃত নয়। বিপরীত দিক থেকে তারা কেউই ভাবছে না, এর ফলে নারীমুক্তিও ঘটছে না। গুহাবাসী নারীরা নেতৃত্ব দিত এখন নারী তার নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে চাচ্ছে। নিরাপদ বন্দীত্ব!

লেখক: থিয়েটার অভিনেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/কলাম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here