জয় দিয়ে অধিনায়কত্ব শুরু করা হলো না সোহানের

0
37
ছবি: সংগৃহীত

সারাবেলা রিপোর্ট: ম্যাচের আগের দিন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বড় মুখ করে নুরুল হাসান সোহান বলেছিলেন, ‘শিখতে আসিনি, জিততে এসেছি।’ কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই বাংলাদেশ অধিনায়কের কণ্ঠের সুর বদলে গেছে। গতকাল প্রথম টি২০-তে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের কাছে ১৭ রানে হারের পর পুরস্কার বিতরণীতে কেবল উন্নতির আশাবাদ ব্যক্ত করলেন সোহান। অবশ্য সোহানের এ ছাড়া বলারও তেমন কিছু ছিল না। বোলারদের প্রায় সবাই এলোমেলো বোলিং করেছেন, বাজে ফিল্ডিং হয়েছে। আর সবচেয়ে চোখে লেগেছে, দুইশর ওপরে রান তাড়া করতে নেমে টপঅর্ডারে এনামুল হক বিজয়ের ২৭ বলে ২৬ রানের ইনিংস। তাই তো জয় দিয়ে অধিনায়কত্ব শুরু করা হলো না সোহানের। তারপরও অধৈর্য্য হয়ে উঠেননি তিনি।

দ্বিতীয় ওভারে মুনিম শাহরিয়ার আউট হওয়ার পর উইকেটে যান এনামুল হক বিজয়। লিটন দাস সময়ের দাবি মিটিয়ে একের পর এক শট খেললেও বিজয় অনেকটা ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। অথচ তখন পাওয়ার প্লে চলছে; ৩০ গজের বাইরে দুই ফিল্ডার থাকার সুবিধা নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ। কিন্তু এসব যেন বিজয়ের মাথাতেই ছিল না। তিনি কোনো রকমে সিঙ্গেলস নিয়ে লিটনকে স্ট্রাইক দিয়ে গেছেন কেবল। তিনি অবশ্য দুটি ছয় মেরেছেন। প্রথমটি ফ্রি হিটে, তারপরও বিজয়ের রান একপর্যায়ে ছিল ২৫ বলে ২০। তখন স্পিনার সিকান্দার রাজাকে মারলেন দ্বিতীয় ছয়টি। কিন্তু ছয় মারার পরের বলেই ক্যাচ দিয়ে আসেন তিনি। কেবল এই ম্যাচেই যে তিনি এমন ব্যাটিং করলেন, তা কিন্তু নয়। ক’দিন আগে উইন্ডিজের বিপক্ষে তিন টি২০-তেও টপঅর্ডারে নেমে যথাক্রম ১০ বলে ১৬, ৪ বলে ৩ ও ১১ বলে ১০ রান করেছেন তিনি। প্রিমিয়ার লিগে রেকর্ড রান করে সাত বছর পর জাতীয় দলে ফিরেছেন এই ব্যাটার। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যে বিশাল ফারাক, তা-ই যেন বোঝাচ্ছেন বিজয়। তবে বাকিরা চেষ্টা করেছেন। তাই তো ২০৫ রান তাড়াও ১৮ ওভার পর্যন্ত সম্ভবই মনে হচ্ছিল।

সবচেয়ে বাজে ছিল বোলিং। শেষ ১০ ওভারে ১৩১ রান দিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। দলের তারকা বোলার মুস্তাফিজ হাফ সেঞ্চুরি করেছেন রান বিলানোয়; শরিফুল-তাসকিনও চল্লিশের বেশি রান দিয়েছেন। তাদের এই জঘন্য বোলিংয়ের কারণেই বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তুলে নেয় জিম্বাবুয়ে। পুরস্কার বিতরণীতে শেষের বোলিং নিয়েই আক্ষেপ করলেন অধিনায়ক সোহান, ‘পরের ম্যাচগুলোতে ওই শেষের কিছু ওভারে আমাদের অবশ্যই উন্নতি করতে হবে। আমরা যদি ১০-১৫ রান কম দিতাম, তাহলেই কিন্তু আমাদের জন্য বেশ ইতিবাচক একটা ম্যাচ হতো।’ প্রতিপক্ষের রান দুইশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পরও নাকি আশা ছাড়েননি তাঁরা, ‘আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল যে এই রান তাড়া করতে পারব। ফিল্ডিংয়ের সময় নিজেদের মধ্যে আমরা বলাবলিও করছিলাম যে উইকেট বেশ ভালো, এখানে এই রান তাড়া করা সম্ভব। আশা করছি, পরের ম্যাচগুলোতে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াব।’ সোহানের আশা যেন সত্যি হয়।

 

আজসারাবেলা/সংবাদ/জাই/খেলাধুলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here