আইএমএফের কাছে ঋণ চাইলো বাংলাদেশ ৪.৫ বিলিয়ন ডলার

0
31

সারাবেলা রিপোর্ট: চলমান আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ওয়াশিংটন ভিত্তিক বহুপাক্ষিক ঋণদাতা সংস্থা্ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

এই ঋণ চাওয়ার আরেকটি বড় কারণ হল, অত্যধিক রপ্তানির বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার (ফরেক্স) রিজার্ভ কমে যাওয়া।

রবিবার (২৪) আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাকে লেখা এক চিঠিতে ঋণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সূত্র মতে, সরকার অর্থনৈতিক ভারসাম্য এবং বাজেট সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমিত করার জন্য অর্থ চাওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মোট ৪.৫ বিলিয়ন ঋণ চাওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১.৫ বিলিয়ন সুদমুক্ত হবে এবং অবশিষ্ট পরিমাণের ক্ষেত্রে ২% এর কম সুদে আসবে।

এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে সেপ্টেম্বরে আইএমএফ এর একটি দল বাংলাদেশে আসবে বলে বলে আশা করা হচ্ছে। তাদের সফরের সময় ঋণের শর্তাদি প্রণয়ন করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করে জানুয়ারিতে আইএমএফের বোর্ড সভায় উপস্থাপনের জন্য লক ইন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, আইএমএফ এর কাছ থেকে ঋণ পেতে বাংলাদেশকে বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে।

তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে, আমাদের একটি বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্সও কমছে। বিনিময় হারের ওপর বড় চাপ রয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে প্রয়োজনীয় আমদানি করা যাচ্ছে না। এমন সময়ে আইএমএফের কাছে যাওয়া যৌক্তিক এবং সঠিক পদক্ষেপ। শ্রীলঙ্কা দেরি করায় তাদের বিরাট ক্ষতি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই অর্থ মূলত এই মুহূর্তে বৈদেশিক লেনদেনের বড় ঘাটতি মেটাতে এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল করতে ব্যবহৃত হবে।”

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন “তবে, এই অর্থ পাওয়ার আগে সরকারকে আইএমএফের দৃষ্টিতে নিজেদের দায়িত্বশীল দেখানোর জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে। এটাকে আমরা প্রি-অ্যাকশন বলি।”

সম্ভাব্য সংস্কার এবং আইএমএফের শর্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “টাকার বিনিময় হার পরিবর্তনশীল এবং বাজারের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। সরকার কর্তৃক বৈদেশিক মুদ্রায় যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে তা এখন সামঞ্জস্য করা দরকার। রাজস্ব নীতিও মুদ্রানীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।”

“সেক্ষেত্রে, ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য ভর্তুকিতে একটি স্তর নির্দিষ্ট করতে হবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকাও জোরদার করতে হবে। সেক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ আদায়ের শর্ত থাকতে পারে”, যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আসলে আইএমএফ সেটাই বলছে যা অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে বলে আসছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সরকার এখন পর্যন্ত সেগুলো আমলে নেয়নি। এখনও যদি এই সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে তা আমাদের অর্থনীতির জন্য ভালো হবে।”

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “নির্বাচনের প্রাক্কালে যখন সরকারকে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণের আশ্রয় নিতে হবে তখন রাজনৈতিকভাবে তা খুব একটা সুখকর হবে না তা বলাই বাহুল্য।”

এর আগে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে তারা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং খেলাপি ঋণের (এনপিএল) উচ্চ হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একজন জৈষ্ঠ্য কর্মকর্তা এর আগে বলেছিলেন, “আইএমএফ ঋণ ও ঋণের সুদের হারের সীমা অপসারণের সুপারিশ করেছে। টাকার বাজার ভিত্তিক পরিবর্তনশীল বিনিময় হার বা বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার সিস্টেম ছাড়াও, সংস্থাটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পদ্ধতি পুনর্নির্ধারণেরও পরামর্শ দিয়েছে।”
অন্যান্য দেশও আইএমএফ থেকে ঋণ চাইছে

দক্ষিণ এশিয়ায় সাত দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি শ্রীলঙ্কা, বর্তমানে আইএফএমের ঋণের জন্য আলোচনায় রয়েছে।

দ্বীপ দেশটির আমদানি করার জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শেষ হয়ে গিয়েছিল, এমনকি দেশটিতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রেল ঘাটতি, পেট্রোল স্টেশনে দীর্ঘ সারি, খাদ্যের ঘাটতি এবং বিদ্যুতের ঘাটতি দেখো দেয়।

পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

আল-জাজিরার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তান এই মাসের শুরুতে আইএমএফের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যা অতিরিক্ত ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণ ছাড়ের পথ প্রশস্ত করবে।
অন্যান্য অনেক দেশও এই মাসে আইএমএফের কাছে সাহায্য চেয়েছে। সংস্থাটি তানজানিয়াকে ১.০৫ বিলিয়ন ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানাও ১.৫ বিলিয়ন ঋণ চেয়েছে।

 

আজসারাবেলা/সংবাদ/জাই/অর্থনীতি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here