সংসদে নারী আসন বিলুপ্তির দাবি খেলাফত আন্দোলনের

0
44
ছবি: সংগৃহীত

সারাবেলা রিপোর্ট: জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। সেই সঙ্গে সংসদ ভেঙে নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্প্রবর্তন, ইভিএম ব্যবহার না করা ও নির্বাহী ক্ষমতাসহ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনেরও দাবি জানিয়েছে দলটি। রাজনৈতিক দলের সব কমিটিতে ৩৩% নারী সদস্য রাখার বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত ধারা বাতিলের পাশাপাশি দল নিবন্ধনে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক শর্তারোপ না করারও প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামী ভাবধারার এ দলটি।

রবিবার (২৪ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে ৪০ দফা তুলে ধরে খেলাফত আন্দোলন। ইসির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয় দলটির চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

দলটির অভিযোগ, বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচন ‘‘বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য’’ হয়েছে। ফলে দেশে ‘‘চরম আকার’’ ধারণ করেছে রাজনৈতিক সংকট।

তারা আরও অভিযোগ করে, ‘‘নির্বাচন কমিশনের নতজানু নীতির ফলে মানুষের ভোটের অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে।’’

দলটির ৪০ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালীকরণে- নির্বাচন কমিশনকে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন এবং সকল দল ও প্রার্থীর সমানাধিকার নিশ্চিতকরণ; নির্বাচনের সময় সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত থাকা; জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখা; সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করে মোতায়েন; ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের থেকে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ, সিইসিকে নতজানু না হয়ে তা কার্যকর ক্ষেত্রে পরিপূর্ণরূপে বাস্তবায়ন এবং সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে জনসংখ্যা অনুপাতে ভৌগলিক দূরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতি খেয়াল রাখা।

সংরক্ষিত নারী আসন বিলুপ্তিকরণ প্রসঙ্গে দলটির যুক্তি হলো, নারীদের সরাসরি সব আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকায় সিলেকশনের মাধ্যমে তাদের জন্য সংসদে পৃথক আসন সংরক্ষণের যৌক্তিকতা নেই। আসন সংরক্ষণের এই ব্যবস্থাটি বৈষম্যমূলক বিধায় তা বিলুপ্ত করতে হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের পক্ষ থেকে সংলাপে ইসির উদ্দেশে বলা হয়, অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এটা প্রতীয়মান হয় যে, দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয় না। নির্বাচনের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠন অপরিহার্য। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হওয়ায় দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। অস্থিরতা ও অবিশ্বাস বেড়েছে। উক্ত বিষয়টিও বিবেচনায় রাখবেন।

দেশের জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠন করে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে বলেও দাবি করেছে দলটি।

 

আজসারাবেলা/সংবাদ/জাই/রাজনীতি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here