মানুষের দূর্ভোগে-দূর্যোগে পাশে থাকতে পারাটাই জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছি: আজহারুল ইসলাম অরুন

0
187

আজহারুল ইসলাম অরুন। ছাত্রলীগ করতেন। এখন আওয়ামী লীগের যুব রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নেত্রকোণার মানুষের কাছে অরুণ ইতিবাচক এক ব্যক্তিসত্তা। যেকোনো বিপর্যয়ে জনমানুষের পাশে থাকেন তিনি। সম্প্রতি ব্যক্তি উদ্যোগে বন্যাপীড়িত প্রায় ৫ হাজার পরিবারকে সহায়তা করেছেন তিনি। অপশক্তির বিরুদ্ধেও অরুণ বরাবরই সোচ্চার। ‘আজ সারাবেলা’ গিয়েছিল নেত্রকোণার দূর্গতদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে। ত্রাণ কার্যক্রমের ফাঁকে কথা হয় অরুণের সঙ্গে। সাহসী, প্রত্যয়ী, মানবিক এক যুবক বলতে থাকেন…

আজ সারাবেলার পক্ষে ছিলেন সিদ্দিক আশিক ও জামসেদুল ইসলাম।

আজ সারাবেলা: নেত্রকোণাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বন্যাকবলিত। কিভাবে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন?

আজহারুল ইসলাম অরুন: আমি একজন ক্ষুদ্র রাজনৈতিক কর্মী। সামর্থ্য হয়ত সীমিত কিন্তু আমার আন্তরিকতা অসীম। মানুষের ভাল কাজের ইচ্ছা থাকলে অনেককিছু করা সম্ভব। আমার সীমিত সামর্থ্যে প্রায় ৫ হাজার বন্যাকবলিত পরিবারকে সহায়তা প্রদান করেছি। টানা দশ দিন ছিল আমার ত্রাণ কার্যক্রম। আমার সহযোদ্ধারা এ কাজটিতে সহযোগিতা করেছেন। আমার ব্যক্তি উদ্যোগে এ ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি। নেত্রকোণার সদর, বারহাট্টা, কেন্দুয়া ও খালিয়াজুড়িতে ত্রাণ বিতরণ করেছি। প্রথম ৪ দিন ছিল শুকনো খাবার। যেমন, চিড়া, মুড়ি, গুড়, বিস্কিট, স্যালাইন, পানি, মোমবাতি ইত্যাদি। বাকী ৬ দিন ছিল ভারী খাবার। যেমন, চাল, ডাল, তেল, আলু, লবণ, স্যালাইন, পানি ইত্যাদি। চেষ্টা করেছি আমার এলাকার মানুষের পাশে থাকতে। মানুষের দূর্যোগে-দূর্ভোগে পাশে থাকতে পারাটাই জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছি।

আজ সারাবেলা: করোনাকালীন সময়ে আপনি কিভাবে ভূমিকা রেখেছেন?

আজহারুল ইসলাম অরুন: করোনার পুরো সময়টা জুড়েই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। কাউকে আর্থিক সহায়তা করেছি, কাউকে খাবার দিয়েছি। কারও কারও চিকিৎসা সহায়তা করেছি। প্রান্তিক জনগোষ্টীর মাঝে, হরিজন পল্লীতে, মুচি সম্প্রদায়ের মাঝে, তৃতীয় লিঙ্গের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করেছি। সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড, বারহাট্টা ও কেন্দুয়া উপজেলার মানুষের মাঝে চেষ্টা করেছি সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার।

 

আজ সারাবেলা: অনেকেই থাকেন দরিদ্র মেধাবী। তাদের জন্য আপনার কার্যক্রম কী?

আজহারুল ইসলাম অরুন: আমি সবসময় চাই প্রান্তিক মানুষ যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। শিক্ষার আলোই মানুষকে এগিয়ে নেয়। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে তাদের পাশে থাকি। কারও বই কিনে দেওয়া, কারও বেতন দেওয়া এগুলো আমার নৈমিত্তিক কাজের অংশ। কিছুদিন আগে হরিজন সম্প্রদায়ের দুজন মেয়ে এসএসসি পাস করার পর তাদের একাকালীন দশ হাজার টাকা করে উপহার দেওয়া ছাড়াও আমি তাদের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষা ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নিয়েছি। শুধু তাই নয় কেউ যদি যোগ্য হয় আমি তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী করে দেওয়ার চেষ্টা করি।

আজ সারাবেলা: নেত্রকোণার রাজনীতিতে গুণগত কী পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন?

আজহারুল ইসলাম অরুন: আপনারা জানেন, ২০১৮ এর নির্বাচনে আমরা নতুন একজন সাংসদ পেয়েছি। যিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সততার প্রতীক হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সমতার প্রশ্নে তিনি আপোষহীন। আশরাফ আলী খান খসরু, সাংসদ এবং মাননীয় সমাজকল্যান প্রতিমন্ত্রী। নেত্রকোণার রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্যণীয়। সবচেয়ে বড় কথা, যেকোন মানুষ তার কাছে যেতে পারেন এবং তিনি মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

জেনে থাকবেন, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে। প্রান্তিক মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিটি মানুষ সন্তুষ্ট সুষম উন্নয়নের কারণে। তৃণমূল এখন আগের চেয়ে সচল। সঠিক মূল্যায়ন তার অন্যতম কারণ। আমরা চাই তরুণদের নানা ধরণের ইতিবাচক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রাখতে। সেই লক্ষ্যে নেত্রকোণা আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মী কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের অনেক সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। বয়োজ্যেষ্ঠদের সেই অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে নেত্রকোণার রাজনীতি। তবে, অপশক্তিতো মাথাচারা দিতে চাইবেই। আমাদের কাজ তা প্রতিহত করা এবং আমরা এ বিষয়ে সদা তৎপর। প্রতিটি তরুণ যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে বুকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে পারে সে লক্ষ্যে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।

 

আজ সারাবেলা: আপনি একসময় ‘টিম নৌকা’ গঠন করেছিলেন। এখন তার কার্যক্রম খুব বেশি দৃশ্যমান নয় কেন?

আজহারুল ইসলাম অরুন: একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে ছিলাম। এখন আওয়ামী লীগের যুব রাজনীতি করছি। টিম নৌকা ছিল নির্বাচনকালীন নৌকার পক্ষে কাজ করে যাওয়ার একটা প্ল্যাটফর্ম। পাশাপাশি সামাজিক-রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও আমরা মানুষের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ-দুর্যোগে পাশে থেকেছি। মাদক জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম থেকে শুরু করে সামাজিকভাবে বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং রোধেও আমরা কাজ করেছি।

আজ সারাবেলা: অনেকেই বলছেন বর্তমান যুবলীগ নতুন করে ‘ইমেজ ব্র্যান্ডিং’ করছেন। আপনার মতামত কী?
আজহারুল ইসলাম অরুন: আমি রাজনীতির ক্ষুদ্র একজন কর্মীমাত্র। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমি তার সন্তান। আমরা বড় হয়েছি বঙ্গবন্ধুর আর্দশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে। যুবলীগ বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম উজ্জলতম নক্ষত্র শেখ ফজলুল হক মনির হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান। তার সুসন্তান অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশ এখন যুবলীগের নেতৃত্বে আছেন। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে, আমরা যারা যুবলীগ কর্মী? আমি পুরনো আলোচনায় যেতে চাই না। করোনার সময় বলেন যেকোনো দুর্যোগকালীন সময় বলেন, বন্যার সময় বলেন যুবলীগ কর্মীরা মানুষের পাশে থেকেছে এবং এখনও আছে। যেকোন জায়গায় আপনি একটা বিপদে পড়ে যুবলীগ কর্মীদের ডাকেন, তারা ছুটে আসবে সহযোগীতা করতে। এটাই যুবলীগের প্রকৃত চেহারা। শেখ ফজলে শামস পরশ ব্যক্তি মানুষ হিসেবে যেমন সৎ, মেধাবী, মানবিক, প্রগতিশীল তেমনি তিনি তার নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনটিকেও একই ভাবধারায় পরিচালনা করে আসছেন। আমরা তার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। যে কাজ মানুষের ও দেশের জন্য।

আজ সারাবেলা: এক সময় নেত্রকোণার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ছিল উজ্জল। এখন তা সে তুলনায় অনেক ¤øান। ফিরিয়ে আনার কোনো সামাজিক-রাজনৈতিক পরিকল্পনা আছে কী?

আজহারুল ইসলাম অরুন: হুমায়ুন আহমদ, নির্মলেন্দুগুণ, যতীন সরকারসহ আরও অনেক গুণী মানুষের জন্মস্থান নেত্রকোণা। জামাল খান, রশীদ উদ্দিন বয়াতি, কুদ্দুস বয়াতি এমন অনেক গুণী মানুষের ¯েœহ ভালবাসা ধন্য এ এলাকা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আওয়ামীলীগ স্বাধীনতার পর থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। যার ফলে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে নানা অপশক্তি সাংস্কৃতিক পরিমÐলকে ভুল রাজনীতি দ্বারা দূষিত করেছে। এখন জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের পথ নির্দেশ করে চলেছেন। দেশ এখন সঠিক পথে চলছে। এই উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার গতিপথকে অব্যাহত রাখতে হবে। তবেই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আবারও ফিরে আসবে। ভুল রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরুদ্ধ রাজনীতি, মৌলবাদ, জঙ্গীবাদের রাজনীতি নিশ্চিহ্ন করতে পারলেই সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রা আরও এগিয়ে যাবে।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/সাক্ষাৎকার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here