পদ্মা সেতু: শেখ হাসিনার বিজয়

0
140

প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল:
সততা আর দৃঢ়তা থাকলে সব সম্ভব, সাফল্য আসবেই। তার উদাহরণ- বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। যাঁর দৃঢ় নেতৃত্বে দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। প্রমত্তা পদ্মার বুকে মাথা উঁচু করে জানান দিচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু- বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক। মাত্র কয়েক বছর আগেও এসব ছিল গল্পের মতো। এখন তা বাস্তব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই স্বপ্নের চূড়া স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলার পথে গোটা জাতিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে এই সেতু।

পদ্মা সেতু আমাদের গর্বের সম্পদ, অহংকারের নিদর্শন, মর্যাদার প্রতীক, কারও কাছে মাথা নত না করার প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক, বাংলাদেশের আত্মসম্মানের প্রতীক। আর দেশের এ সম্মান অর্জনের বীর, সফল সাহসী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা।

পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু সরল পথে হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এ সেতুর বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। বিরোধীপক্ষ চেয়েছিল শেখ হাসিনার শাসনামলে যাতে এ বিশাল সেতু নির্মিত না হয়। তাদের মনোবেদনা ছিল, সত্যি সত্যি যদি শেখ হাসিনার সরকার এ সেতু নির্মাণ করতে সমর্থ হয় তাহলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার প্রায় ৪ কোটি মানুষের জীবনযাত্রাই পাল্টে যাবে। দেশের অর্থনীতিতে এ সেতু রাখবে বিরাট ভূমিকা- ফলে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা এবং তার সরকারের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পাবে বহুগুণ। আর তাই শুরু থেকেই দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রকারীদের প্ররোচনায় মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদ্মা সেতুর ঋণ আটকে দেয় বিশ্ব ব্যাংক।

কঠিন সেই সময়ে অবিচল প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছিলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু হবেই এবং তা সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে। দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদেরা সে সময় এই ঘোষণায় বিস্মিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের সামর্থ্য নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু সত্য-তো ছাঁইচাপা আগুন। লুকিয়ে রাখা যায় না। আন্তর্জাতিক আদালতে প্রমাণ হয়- পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়নি। কানাডার সেই আদালত জানায়, পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগটি ছিল মিথ্যা, বানোয়াট।

ষড়যন্ত্রের ডালপালা, নাড়ি-নক্ষত্র বুঝতে অসুবিধা হয়নি জননেত্রী শেখ হাসিনার। বাঙালির কপোলে ‘দুর্নীতির’ কলঙ্ক চিহ্ন এঁকে দেয়ার ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই মেনে নেননি তিনি। সততা আর দেশপ্রেম দিয়ে দিয়েছেন সকল ষড়যন্ত্রের জবাব।

পদ্মা সেতুর কারণে দেশের জিডিপি বাড়বে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগে নিয়ে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। দক্ষিণাঞ্চলের ভারী শিল্পের পাশাপাশি এসএমই খাতে বিপ্লব ঘটবে। বিকশিত হবে পর্যটন খাত। পায়রা সমুদ্রবন্দর দিয়ে বাড়বে পণ্য আমদানি-রফতানি। পায়রা ও মোংলা বন্দর, বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। কয়েক বছরের মধ্যেই দেশের অর্থনীতিকে দেখা যাবে সম্পূর্ণ নতুন রূপে। মানুষের জীবন-মানে আসবে অভাবনীয় পরিবর্তন।

এটাই তো চেয়েছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। জনগণের উন্নয়ন, দেশের উন্নয়ন। পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন যেমন পৃথিবীর বুকে ইতিহাস তেমনি শেখ হাসিনাও ইতিহাস হয়ে থাকেলন- সাহস আর সততার।

লেখক: সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখা জামালপুর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/কলাম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here