সৌদিতে গৃহকর্মী হিসেবে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের স্বীকার পলি

0
46
ছবি: সংগৃহীত

সারাবেলা ডেস্ক: সৌদি আরবে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা প্রায়শই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়। ভালো থাকার তাগিদে, ভাগ্য ফেরানোর চেষ্টায় দূর দেশে পাড়ি দেওয়া গৃহকর্মীদের ওপর অনেক সময় চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত অনেকে দেশে ফিরে হাফ ছেড়ে বাঁচেন। তেমনি একজন সৌদিফেরত গাজীপুরের মেয়ে পলি। তার বিয়ে হয়েছে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাটাজোর গ্রামে।

পলিকে নির্যাতনের বিষয়ে গত ১১ মে ঢাকার জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সেলে লিখিত অভিযোগ করেন পলির স্বামী আসির উদ্দিন।

গতকাল বুধবার (২৫ মে) বিকেলে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দনে নামেন পলি।

নেমেই পলি গণমাধ্যমে জানান, তিনি যেন নরকে ছিলেন। এর বিচার চেয়েছেন তিনি।

তার স্বামী আসির উদ্দিনের ফোনে তিনি বলেন, ‘‘আট মাসের প্রথম ১৫ দিন ভালো ছিলাম। প্রথম প্রথম ঘরের দরজা খোলা রাখা হতো। এরপর থেকে তালা দেওয়া হয়। এই আট মাস বাইরে বের হতে পারিনি। স্বামীর সঙ্গে কয়েক দিন কথা বলেছি। পরে ফোনটিও ভেঙে ফেলা হয়। মারধর করে মৃতপ্রায় অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মনে হচ্ছিল মরেই যাব। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরলাম। আমার স্বামী আমার জন্য অনেক করেছেন। আপনারাও পাশে ছিলেন। দেশে আপনজনের কাছে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে।’’

পলি আরও বলেন, ‘‘হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার রাতে তাকে মালিক বাসায় নেন। সেখান থেকে হাতে তিন মাসের বেতন ধরিয়ে বিমানবন্দরের টিকিট কেটে দেন। টিকিটও ওই তিন মাসের টাকা থেকে নেওয়া। কাপড়চোপড় কিছুই দেয়নি। মোবাইলও দেয়নি। আমি একটি নরকে ছিলাম। এর জন্য বিচার চাই।’’

পলির স্বামী আসির উদ্দিন সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘‘গত রাতে তার কাছে ফোন দেন পলি। জানান, বাংলাদেশ সময় ভোরে বিমানে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে ফিরবেন তিনি। আরও কিছু শোনার আগেই ফোনটি কেটে যায়। সে জন্য আজ দুপুর থেকে বিমানবন্দরে স্ত্রীর অপেক্ষায় বসে ছিলেন তিনি। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পলি বিমান থেকে নামেন। এখন তিনি বাড়ির পথে। মোটামুটি সুস্থ পলি। তাঁর এখন বিশ্রাম দরকার।’’

গত ১১ মে করা পলির স্বামীর অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৯ অক্টোবর মেসার্স জেনিয়া ওভারসিজের (আরএল-১২২০) মাধ্যমে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন পলি। সেখানে যাওয়ার পর থেকে তার স্ত্রীকে অত্যাচার, মারধর, নির্যাতন করা হচ্ছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তার স্ত্রীকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। বিষয়টি তিনি এজেন্সিকে জানালেও সেখান থেকে কোনো সহায়তা পাননি বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।

ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এজেন্সিকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমটিকে জানান ব্যুরোর উপপরিচালক (প্রশাসন) জোহরা মনসুর।

তিনি বলেন, ‘‘তাদের কাছে অভিযোগ আসার পরপরই তারা এজেন্সিকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন। পলির হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথাও তারা জানিয়েছিলেন। এরপরই এজেন্সি ব্যবস্থা নেয়।’’

 

আজসারাবেলা/সংবাদ/জাই/প্রবাস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here