শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ী সংঘর্ষ: ১০ জন শনাক্ত, গ্রেপ্তার হয়নি এখনও

0
69
ছবি: সংগৃহীত

সারাবেলা ডেস্ক: রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় হেলমেট পরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো ১০ জনকে শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ। সংঘর্ষের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী নাহিদ হোসেনকে কুপিয়ে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

ঘটনার ছয় দিন পরও ১০ জনের কাউকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন বলে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্টরা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

১৯ এপ্রিলের ওই সংঘর্ষের সময় নাহিদের পাশাপাশি পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় দোকানকর্মী মোহাম্মদ মোরসালিনকে। তাকে কারা পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছেন- এ বিষয়ে এখনও তদন্তে সুনির্দিষ্ট কোনো অগ্রগতির কথা জানাতে পারেনি পুলিশ। হামলাকারীদেরও শনাক্ত করা যায়নি। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত করা আহ্বায়ক কমিটির এক নেতার অনুসারীরা জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণের পাশাপাশি নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী সূত্র বলছে, সংঘর্ষের সময় ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির চার নেতার অনুসারীরা বেশি বেপরোয়া ছিলেন। তাদের অনেকে হেলমেট পরে ধারালো অস্ত্র এবং রড–পাইপ হাতে ভাঙচুর–সহিংসতায় অংশ নেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি সূত্র বলছে, মোরসালিন হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, সে বিষয়ে জানতে ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংঘর্ষ, ভাঙচুর–সহিংসতার ঘটনায় ব্যবসায়ী-দোকানকর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার ফারুক হোসেন বলেন, যাদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। শিগগিরই এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

দুটি হত্যা মামলার তদন্তের পাশাপাশি সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্র হাতে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের শনাক্তেও কাজ করছে ডিবির একাধিক টিম। এরই মধ্যে অন্তত ১০ অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী। তারা ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ডিবি সূত্র বলেছে, সংঘর্ষের সময় হেলমেট পরে এবং ধারালো অস্ত্র হাতে শুধু ছাত্ররা নন, ব্যবসায়ী-দোকানকর্মী ও হকাররাও অংশ নেন। তাদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৮ এপ্রিল রাতে রাজধানীর নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়। নিউমার্কেটের দুটি খাবারের দোকানের দুই কর্মীর বিতণ্ডা থেকে ওই ঘটনার সূত্রপাত। এর জের ধরে ১৯ এপ্রিল (গত মঙ্গলবার) দিনভর রাজধানীর মিরপুর সড়কের নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন বিপণিবিতানের দোকানমালিক-কর্মচারী ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে মারা গেছেন দুজন। আহত হয়েছেন অর্ধশত ব্যক্তি। এ ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা দুটি। আর চার মামলায় মোট আসামি ১ হাজার ৫৭৪ জন। এর মধ্যে নাম উল্লেখ করা আসামি ২৪ জন, অন্যরা অজ্ঞাতপরিচয়।

এখন পর্যন্ত পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় শুধু নিউমার্কেট থানা বিএনপি নেতা মকবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার তিন দিনের রিমান্ড আজ মঙ্গলবার শেষ হবে। রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি পুলিশ।

 

আজসারাবেলা/সংবাদ/জাই/জাতীয়/রাজধানী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here