টি শার্ট যেভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে

0
244
ছবি: সংগৃহীত

সারাবেলা রিপোর্ট: সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে মানুষের রুচি ও চাহিদার নানা পরিবর্তন হয়ে আসছে। মানুষ স্বভাববত নিত্য নতুনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্ঠা করে। অন্যান্য বিষয়গুলোর মতোও পোশাকেরও নিত্য নতুনত্ব চলে আসছে। এ নিত্য নতুন প্রতিটি বিষয়ের একটা ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।

টি-শার্ট একটি বহুল জনপ্রিয় পোশাক। বর্তমান যুগে নারী-পুরুষ উভয়ই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে পরিধান করেন। গ্রীস্মকালে এই পোশাক সব থেকে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। আধুনিক ফ্যাশনে টি-শার্ট বেশ বড় একটি জায়গা দখল করে আছে। পোশাকটি বিশ্ব সংস্কৃতিতে খুব গভীরভাবে জড়িত। এ পোশাকটির একটি ঐতিহাসিক ‍গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট আছে।

১৯ শতকের শেষের দিকে টি-শার্টের উৎপত্তি । সাধারণত টি-শার্ট এর প্রচলন শুরু হয় শীত প্রধান দেশে। সে সময় যখন শ্রমিকরা গ্রীস্মকালে ফুলহাতা জাম্পার পরিধান করে কাজ করত। তখন তাদের কাজের ব্যাঘাত ঘটত। যার জন্য গ্রীস্মকালের জন্য সে জাম্পারের হাত ছোট করে কেটে ফেলা হতো। এটা ছিল সে সময়কালের টি-শার্টের অ-প্রাতিষ্ঠানিক উৎপত্তিকাল।

ইংরেজি অভিধানে “টি-শার্ট” শব্দটি প্রথম লিপিবদ্ধ হয় ১৯২০ সালে। এফ. স্কট ফিটজগেরাল্ড এক ঔপনাসিক প্রথম এ শব্দটি তার উপন্যাস ‘দিস সাইড অফ প্যারাডাইস’-এ প্রকাশ করেছিলেন।

১৯৫০ সালে, মারলন ব্র্যান্ডো বিখ্যাতভাবে একটি স্ট্রিটকার নেমড ডিজায়ারে স্ট্যানলি কোওয়ালস্কির চরিত্রে একটি সাদা টি-শার্ট পরেছিলেন। থমাস ই. ডিউই, একজন রিপাবলিকান রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, তার “ডু ইট উইথ ডিউই” প্রচারণার মাধ্যমে সম্ভবত প্রথম স্লোগানযুক্ত টি-শার্ট তৈরি করেছিলেন। সেসময়কার একটা পরিচিত মার্কিন পত্রিকায় সংস্থার পক্ষ থেকে এই বিশেষ ধরনের জামার বিজ্ঞাপণ দিয়ে লেখা হয় ‘যে সমস্ত যুবক অবিবাহিত এবং সিঙ্গেল, যারা জামার বোতাম ছিঁড়ে গেলে সেলাই করে নিতে পারবেন না, এ জামা তাদের জন্যই!’। পরবর্তী সময়ে টি-শার্ট এর প্রাতিষ্ঠানিক একটা ভিত্তি দাঁড় হয়েছিল।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রতিবাদ সহ রক ব্যান্ড লোগোতে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় টি-শার্টকে একটি মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দৃঢ় করতে সাহায্য করেছে।

নথড্রাফ্ট বলেছেন “মানুষকে হতবাক এবং ক্ষুব্ধ করা এবং স্থিতাবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার বিষয়ে,” টি-শার্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছিল।

নথড্রাফ্ট টি-শার্টকে “একটি গণতান্ত্রিক পোশাক” বলে অভিহিত করেন।

টি-শার্ট জনসাধারণের কাছে আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যখন অভিনেতা মারলন ব্র্যান্ডো আ স্ট্রিট কার নেমড ডিজায়ার চলচ্চিত্রে পোশাকটি পরিধান করেন। এই প্রভাবগুলির কারণে টি-শার্ট আরও মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং ফ্যাশনেবল পোশাক হিসাবে প্রচলিত হয়ে ওঠছে।

 

আজসারাবেলা/সংবাদ/জাই/ফিচার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here