অন্ধ হাফেজের একটি ব্রেইল মেশিন কিনতে বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন

0
129
ছবি: সংগৃহীত

সারাবেলা রিপোর্ট: চোখ নিয়ে জন্ম নেন চাঁন সওদাগর। কিন্তু ৪ বছর বয়সে গুটি বসন্তে তার দুটি চোখের দৃষ্টি হারিয়ে যায়। মা–বাবাকেও হারিয়েছেন ছোট বয়সেই। এলাকায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কোরআনের হাফেজ চাঁন সওদাগরকে কমবেশি সবাই চেনেন। পুরো নাম মতিউর রহমান।

সেই অন্ধ হাফেজ একটি ব্রেইল মেশিনের অভাবে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চাঁন সওদাগর জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ৪নং হাতীভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব আমখাওয়া গ্রামের বাসিন্দা।

ব্রেইল মেশিন দিয়ে অন্ধদের জন্য পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বই লিখে সংসার চলত অন্ধ হাফেজ মতিউর রহমানের (৫১)। ছয় মাস ধরে তাঁর সেই মেশিন বিকল হয়ে পড়ে আছে। অর্থের অভাবে নতুন মেশিন কিনতে পারেননি। ফলে কর্মহীন হয়ে স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি।

মতিউর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাঁর বাবা মনছুর আলীকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর হত্যা করে লাশ ভাসিয়ে দেয় নদীতে। ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের সময় মাকে হারান মতিউর। ওই সময় এক ইংরেজ নারীর সহযোগিতায় ঢাকায় অন্ধদের একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

মতিউর বলেন, সেখানে তিনি দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন এবং কোরআনে হাফেজ হন। এর মধ্যে ওই ইংরেজ নারী তাঁর দেশে ফিরে গেলে পুরো অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন। একটি এতিমখানা থেকে ব্রেইল পদ্ধতিতে মেশিনে তাফসিরুল কোরআনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হন ও লেখার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সেই থেকে ব্রেইল মেশিন পদ্ধতিতে পবিত্র কোরআন, হাদিসসহ অন্যান্য পাঠ্যবই লিখে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তিনি। কিন্তু ব্রেইল মেশিনটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যায়।

মতিউর রহমানের সংসারে এখন স্ত্রী ও এক ছেলে। ছেলেটি এবার এসএসসি পাস করেছে। এখন কলেজে ভর্তির চেষ্টা করেছে। মতিউর বলেন, গত বছর করোনা বিধিনিষেধের সময় বাড়িতে বসে থাকায় সামান্য অর্থ যা ছিল, তা–ও শেষ হয়ে যায়। এর মধ্যে ব্রেইল মেশিনটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংসারের আয়রোজগার বন্ধ হয়ে যায় তাঁর। গত ছয় মাস আয়রোজগার না থাকায় পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন তিনি। অনেক আগে কষ্ট করে বসবাসের জন্য তিন শতক জমি কিনেছিলেন। সেটির মালিকানা নিয়েও এক ব্যক্তির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে। যেকোনো সময় বসবাসের ঠিকানা হারানোর শঙ্কায় ভুগছেন তিনি।

মতিউর রহমান বলেন, অন্ধ হয়েও তিনি ভিক্ষাবৃত্তিতে যাননি। ব্রেইল মেশিনটি দিয়েই আয়রোজগার করে সংসার চালাতেন তিনি। মেশিনটি বিকল হয়ে যাওয়ার পর বহু জায়গায় ঘুরেছেন, কিন্তু তেমন কারও সহযোগিতা পাননি। দু–একজন সামান্য সহযোগিতা করলেও সেটা দিয়ে তিনি এখনো তাঁর মেশিনটি সচল করতে পারেননি। ব্রেইল মেশিন কিনতে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার প্রয়োজন।

মতিউর রহমান বলেন, তিনি সাহায্য নয়, তাঁর মেশিনটি সচল করতে সমাজের বিত্তশালীদের একটু সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে নতুন করে আরেকটি ব্রেইল মেশিন দিয়ে আবার আয়রোজগারে ফিরতে পারেন।

আজসারাবেলা/সংবাদ/মৃধা/জীবন যাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here