ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে মরিয়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

0
414

সারাবেলা রিপোর্ট: বিশেষ সাক্ষাৎকারঃ লেখক ভট্টাচার্য। 

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। বর্তমানে ছাত্রলীগে অনেক অনুপ্রবেশ ঘটছে, অনুপ্রবেশকারী খুজে বের করা, করোনা কালীন এবং পরবর্তী সাংগঠনিক গতিশীলতা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন আজ সারাবেলা এর সাথে।

প্রশ্নঃ অনুপ্রবেশকারী ঠেকানোর জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বর্তমান অবস্থা কি?
লেখক ভট্টাচার্যঃ অনুপ্রবেশকারীরা যেন কখনো নেতৃত্বে আসতে না পারে। যারা নেতৃত্বে আসুক তাদের সম্পর্কে বিশ্লেষণ করে সংগঠনে ঢোকানো হয় এ ধরণের নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সব সময় দিয়ে থাকে। এছাড়াও ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মশলা করে সকল নেতাকর্মীদের এ সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়। তৃণমূল ছাত্রলীগকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনা পৌছানোর জন্য বিভিন্ন ধরণের কাজ করা হয়ে থাকে। তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রম যেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ পর্যন্ত পৌছাতে পারে এবং আমরা যেন সেগুলো সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারি এজন্য আমরা সবসময় ওতপ্রোতভাবে কাজ করি। অনুপ্রবেশকারী ঠেকানোর জন্য আমাদের সবচেয়ে বড় যে কাজ করতে হবে তা হল, যারা মুজিব আদর্শ বুকে ধারণ করে তাদের সকলকেই নিজের জায়গা থেকে সচেষ্ট হতে হবে। তার আশেপাশের প্রত্যেককে তার নিজের পাশের দুর্নীতির দিকে খেয়াল রাখতে হবে, ছাত্রলীগের ভিতরে আসুক না কেন তাদের সঠিক পরিচয় এবং সেই দায়বদ্ধতা আছে কিনা তা দেখতে হবে। ছাত্রলীগের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মুজিব আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধতা যাদের আছে তাদের যদি কমিটি করবার ব্যাপারে বাছায় করি তাহলে এই সমস্যার সমাধান হবে। অনুপ্রবেশকারীরা সবথেকে বেশি যে ক্ষতি করে তা হল দলের মাঝে ঢুকে তারা ছাত্রলীগকেই বিতর্কিত করে। তারা ব্যক্তিস্বার্থ অর্জনের জন্য অনেক ঘৃণ্য কাজ করে যা ছাত্রলীগের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করে। আমরা সেগুলোর ব্যাপারে সচেষ্ট আছি, এমন কোন কাজ বা সংঠনের শৃঙ্খলা বিরোধী কোন কাজ আমাদের নজরে আসলে আমরা দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তির ব্যবস্থা করি যেন পরবর্তিতে অন্য কেউ আর এধরণের ঘৃণ্য কাজ করতে সাহস না করে। কোন অনুপ্রবেশকারীকে আমরা শনাক্ত করতে পারলে তার বিরুদ্ধেও আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করি।

প্রশ্নঃ সারা বাংলাদেশে ছাত্রলীগের কমিটি দেবার সময় কিভাবে ছাত্রনেতাদের যাচায় বাছায় বা মূল্যায়ন করা হয়?
লেখক ভট্টাচার্যঃ প্রথমে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি আমরা কিছু সংখ্যক সদস্য নিয়ে করে থাকি। পরবর্তীতে জেলার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক তাদের আস্থাভাজন এবং রাজপথের দীর্ঘদিনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করবার সুপারিশ করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে স্থানীয় এবং প্রশাসনিকভাবে ভালোভাবে যাচায় বাছায় করে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। অনুপ্রবেশকারী তার স্বরুপে না আসা পর্যন্ত তাকে বাছায় করা একটু কঠিন কাজ। অনুপ্রবেশকারী অথবা সংগঠনের কোন নেতাকর্মী শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করলে আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করি।

প্রশ্নঃ কোন নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে যদি প্রশাসনে অভিযোগ থাকে তখন তাকে কমিটিতে সুযোগ দেওয়া হয় নাকি?
লেখক ভট্টাচার্যঃ কমিটি দেবার পূর্বে আমরা সকলকে যাচায় বাছায় করি এবং কারো বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ থাকে তাহলে আমরা তাকে কমিটি থেকে সরিয়ে দেয়। তবে যদি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তুলে নেওয়া হয় অথবা বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে যায় এবং সে যদি ছাত্রলীগের সব ধরণের কার্যক্রম এবং নিয়ম মেনে চলে তবে তাকে আমরা সুযোগ দিয়ে থাকি। এছাড়াও কমিটি প্রকাশ পাবার পর যদি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে তাহলে আমাদের তথ্যসেলের বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি।

প্রশ্নঃ সংগঠনকে গতিশীল করবার জন্য বর্তমানে কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে কি পদক্ষেপ নিবেন?
লেখক ভট্টাচার্যঃ করোনা মহামারীর কারণে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা স্থবির হয়ে ছিল কারণ আমাদের কাজ শিক্ষার্থীদের নিয়ে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবার কারণে এই সংকট তৈরি হয়। কিন্তু মহামারী কালিন আমরা মানবিক এবং সামাজিক কাজের মাধ্যমে ছাত্রলীগের বিগত দিনের সংকট কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করেছি এবং আমরা সফল হয়েছি। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে যাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে আমাদের ছাত্রলীগের সকল ইউনিট আবার সক্রিয় হচ্ছে এবং আমাদের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সকল নেতাদেরকে ছাত্রলীগের জেলা উপজেলা পর্যায়ের ইউনিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যেন আমরা তাদের কাজ সরাসরি নিরীক্ষণ করতে পারি এবং গতিশীল করবার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারি।

প্রশ্নঃ দেশের স্বার্থ বিরোধী কাজ কেউ করলে ছাত্রলীগের কি ভূমিকা থাকবে?
লেখক ভট্টাচার্যঃ দেশভাগের আগে থেকে ছাত্রলীগের যাত্রা শুরু। আমাদের দেশের ৪টি মূলনীতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শ এবং আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার পরিপন্থী কোন কাজ এবং দেশের স্বার্থবিরোধী কোন কাজ হলে সবার আগে ছাত্রলীগ সেটা রুখে দেয় এবং এই ধারাবাহিকতা সর্বদা বজায় থাকবে। যতদিন ছাত্রলীগ থাকবে ততদিন অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের এই সংগ্রাম চলবে। বি এন পি বা অন্য কোন সংগঠন যদি রাজপথকে কলুষিত অথবা বিশৃঙ্খল করতে চায় তাহলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সেগুলো শক্ত হাতে মোকাবেলা করব।
“বিএনপি বা দেশের স্বার্থবিরোধী যেকোন কাজে বাধা দেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ”-লেখক ভট্টাচার্য

আজসারাবেলা/সংবাদ/যুবায়ের/সাক্ষাৎকার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here