ফারহাতুল জান্নাতের গুচ্ছ কবিতা

3
254

আলোর ঝুমকার অপেক্ষা

নির্লিপ্ত কোনো এক সন্ধ্যায়
মনের ক্লান্তি চাতককে বলে
বাস্তবতার রসিকতা বোঝা বড় দায়।
আমার চারপাশে কত সবুজ অভিপ্রায়
হালকা হওয়ায় কানে কানে কয়
দস্যু এক চন্দ্রাহত হারিয়েছে তো কী!
চাঁদের আলো তো ভোলেনি তোমায়।
আমি বলি, ও মা এও কি হয়?
গুনগুন গান তখন আমার চুল সরায়,
বলে,
চাঁদ ওই পাহাড়ের মাথায়
তারা গুনে গুনে ভাবছে
আলোর ঝুমকা পরাবে তোমায়।
তুমি বোকা ব্যাকুলতা ছাড়ো
থেকো না অপেক্ষায়।
যা হারিয়েছ তার চেয়েও বড় আশীর্বাদপুষ্ট তুমি ঈশ্বরের ইচ্ছায়।

শহর

এ শহর বড্ড অভাবের শহর।
শুধু মানসিক দৈনতা ভরপুর।
মানবিকতার লাশ কাঁধে নিয়ে
দু’পেয়েদের নিত্য আনাগোনা।
কুঠুরিতে আটকে থাকে আকাশের নীল
আর ছলনা আমাদের আচ্ছাদন, নিবিড়।
কোথায় কবে কোন প্রেম জন্মেছিল
তার প্রেমিকেরা পলাতক।
মুঠোফোনে কেঁদে ফেরে স্মৃতির এ্যালবাম
আর প্রেমিকারা হাসে, তাতে নেই কোনো প্রাণ।
এ শহরে চোখের জলের দাম নেই
যতটা লাল লিপস্টিকের আছে।

এ শহর বড্ড ভাবের শহর।

করোনা

মহামারিতে আবৃত ধরণী
ভুলেছে আদৃত কাক ডাকা ভোর।
মোরগফুলও মোরগের মতোই
নিখোঁজ তালিকায় নাম খুঁজে মরে।
বন্যা, দূর্ঘটনা, কোভিড – ১৯
সবই শুধু মৃতের তালিকার ভিন্ন নামকরণ।
আমার গলায় জোর নেই,
আমার জিভে জল নেই।
এরপরও শোকের ডাকে
এ শহরে সকাল ওঠে।
ঘুম থেকে পাশবিকতা জাগে
আর মানুষ বরং
মরে গিয়ে বেঁচে থাকে।
জীবিত দু’পেয়েরা দাম্ভিক প্রতারক
সুবোধের দাঁড়িপাল্লায়
ওজনদার শুধু অমানুষ ও ঠগ।
করোনা তুমি এলে, ছিনিয়ে নিলে প্রাণ,
পেছনে রেখে গেলে অর্থপূর্ণ জীবনের
অর্থহীন জয়গান।

 

বৃষ্টিময় কৃপা

অন্দর তাহার বৃষ্টিবহুল
ঘর জুড়ে শুধু আমার সুবাস।
আমি ভিজে ভিজে পুড়ি বৃষ্টিতে
আর মনের আঙ্গিনায়,
ছড়ানো তার না বলা আশ্বাস।
মুখ লুকিয়ে সে আয়নায় দেখে নেয়,
ঈশ্বরের কৃপা কীভাবে
এক মানবীর দু’চোখে সরব হয়ে রয়!
নয়নতলে জলের দেখা মেলে কি মেলে না
ব্যথা লুকানোর অভিনয় সহজ হয় না।
প্রেম তুমি পূজা তুমি
কবুল করে নাও এ প্রার্থনা।
ঈশ্বর, আমি যার সে যেন
আমায় ছেড়ে যায় না।

 

বেহিসেবী কবি

অনেক কিছু বলার আছে, লেখার আছে
তার চেয়েও বেশি আছে মুছে ফেলার
একমাত্র তুমি আছ যাকে কখনও মুছে দিতে চাইনি।
ডায়রির পাতায় হলেও থেকে যেও
আমার কবিতায় হলেও থেকে যেও।
এবার সত্যি বলছি
তুমি আসলে
আলিঙ্গন ছাড়া আমি ফিরব না।
এ শহরে দারিদ্র্য বেড়েছে, বেড়েছে দুর্দশা
এক টুকরো “আমি” দিয়ে দেবো তোমার বুকের ভিতরে।
যতই অবুঝ হও
তোমাকে খুব করে বোঝানোর পায়তারা করছি
কবির ভালোবাসা বেহিসেবী হয়,
যেমন হয় তার কবিতার রং।
জলের কালিতে লিখে দেবো আমাকে
তোমার আবেগের সীমানা জুড়ে
কবির মন বুঝতে হলে
বুঝতে হয় কথার খাঁজও,
শুধু বুকের খাঁজ নয়।
আদর জমেছে অনেক
মুখে এবার কিছুই বলব না
কথা হবে ঠোঁট থেকে ঠোঁটে।
তুমি এবার এসো,
আগাম বলে রাখলাম
সব অসুখের হিসাব
মেলাব দু’জনে মিলে।

 

আজসারাবেলা/এমজে/শিল্প সাহিত্য 

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here