কেন্দ্রীয় কারাগারে জন্ম নেওয়া ব্যান্ডের নাম ‘কাকতাল’

0
82

সারাবেলা ডেস্ক: কাকতাল ব্যান্ডের জন্ম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে, কাকতাল শব্দটির অর্থের মতোই অনাকাঙ্ক্ষিত স্থানে লুকানো প্রতিভা প্রকাশিত ও বিকশিত হয় এই ব্যান্ডের মাধ্যমে । আধুনিক কারাগার শাস্তির জায়গা নয় বরং সংশোধনের জায়গা। মূলত : সেই ভাবনা থেকেই এই সবকিছুর আরম্ভ।

শুরুটা কবে?

শুরুটা হয়েছিল ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে, কারাগার কর্তৃপক্ষ কিছু মিউজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট নিয়ে আসলেন কয়েদিদের জন্য। উদ্দেশ্য ছিল মন ও আত্মা আলোকিত করার জন্য বিভিন্ন সৃষ্টিশীল কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করা ।

এর তিন বছর পর

একটি অ্যাকোয়েস্টিক গিটারের জায়গায় এখন চারটি অ্যাকোয়েস্টিক গিটার। আর হারমোনিয়াম তিনটি, বাঁশি পাঁচটি। এসেছে একটি বৈদ্যুতিক কি-বোর্ড ও একটি ড্রাম প্যাড। রেকর্ডিংয়ের জন্য এখন একটি মাইকও আছে। আছে একটি এমিপ্লিফায়ার ও এক জোড়া স্পিকার।

কাকতাল ব্যান্ডের সদস্যরা। ছবি : সংগৃহীত

এবং ব্যান্ডের জন্ম 

সবাইকে অবাক করে দিয়ে একটি অসাধারণ ফল বেরিয়ে এসেছে এই উদ্যোগ থেকে। জন্ম নিয়েছে একটি ব্যান্ড। তার নাম ‘কাকতাল’। ব্যান্ডের সদস্যরা সবাই কারাবন্দি এবং এদের কেউই পেশাদার ছিলেন না। ফেলে আসা জীবনের কিছু অংশে তারা সঙ্গীতে আগ্রহী ছিলেন।

ব্যান্ডটির এখন ইউটিউব চ্যানেল আছে, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল জেল, কেরানীগঞ্জ’ নামে সেখানে গানও রয়েছে অনেকগুলো। সব কটি গানের কথা ও সুর করেছে কাকতাল ব্যান্ডের সদস্যরা।

কাকতালের কিছু গান 

নীল শহরে বৃষ্টি, চর্কি, আবার দেখা হলে, পাথরের শহর ইত্যাদি।

চর্কি গানের নিচে (কমেন্ট বক্সে) হাসিবুল আলম নামে একজন লিখেছেন,

‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত কোনো ব্যান্ডও এত সুন্দর লিরিকের গান বাঁধতে পারে না!
এগিয়ে যাক। শুভ কামনা। আমাদের কারাগারগুলোতে বসন্ত নামুক…’

এরা ছাড়াও অনেকেই তাদের সৃজনশীলতা এবং মেধা দিয়ে এই ব্যান্ডকে সমৃদ্ধ করেছেন। তবে ‘কাকতাল’ প্রতিষ্ঠায় যার অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি হলেন আসিফ ইকবাল। তিনিও কারাবন্দি।

একই সঙ্গে মজার এবং নির্মম বিষয় হলো, ব্যান্ডটির কোনো লাইনআপ নেই। কারণ, ব্যান্ড-সদস্যদের অনেকেই কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে যান বা অন্য কোনো কারাগারে চলে যান। আবার অনেকেই নতুন করে যুক্ত হন ব্যান্ডে। এভাবেই লাইনআপ ছাড়া চলছে ব্যান্ডটি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুভাষ কুমার ঘোষ ব্যান্ডের বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে না পারলেও কেন্দ্রীয় কারাগারে সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কাজের বেশ কিছু তথ্য দেন।

সুভাষ কুমার ঘোষ বলেন, ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মননচর্চা কেন্দ্র বলে একটি জায়গা রয়েছে। যারা সৃজনশীল কাজে আগ্রহী, তারা সেখানে গিয়ে তাদের সেই কাজগুলোর বিকাশ করতে পারে।’

 

আজসারাবেলা/এমজে/বিনোদন

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here