আব্দুল্লাহ আল জুনায়েদের তিন কবিতা

0
149

বাংলার মুখ

বাংলায় আমার সুখ নিবেদন অনিন্দ্য ভালোবাসা,
মাঠ ঘাটে সবুজ শ্যামলে নিত্য ভরা আশা।
সমুদ্রে সুফল ভূমিতলে তোমারই মায়ার অনুগ্রহে
খালে বিলে চন্দ্রানীর কিরণ সন্ধ্যা বেলা।
ও আকাশে কুয়াশা ডাকা ভোর হতে পাখির কলহ শোনা!
দীঘল পন্থ ছুঁয়ে মাঝির বিরল পথে চলা।
প্রকৃতির আমার জীবনানন্দ,
প্রকৃতি আমার আশা
এই আশাতে মাটির বুকে আমার পথ চলা।
সৃষ্টি কর্তার বিরাজ স্বরূপ প্রকৃতিতে মেশা!
সব কিছুতে প্রত্যক্ষ তিনি
তিনি আমাদের ভালোবাসা।
কারও ভগবান আর কারও খোদা
একই ঈশ্বর একই আল্লাহ!
বাংলায় আমার সুখের প্রান্তর
তাঁতিদের হাড়গোড় শ্বেতশুভ্র হয়ে যায়
কৃষকের বোনা ফসলে আবার কষ্টের গ্লানি থেকে যায়!
আর মৃত্তিকায় গড়া দেহের গঠনে মৃত্তিকাই রয়ে যায়!
কেন করব বাহাদুরি আর ক্ষমতার অপব্যবহার
মিশে মায়ার পথে চলে অশূন্যেই রয়ে যায়।
কিবা দোষে ছলনায় পড়ে করব পাপের রাজ্য আসর
শূন্যে তে যাবো একদিন শূন্যতেই আসর!

 

আমি অজপাড়াগায়ের মৃত্তিকা বলছি

আমি অজপাড়াগায়ের মৃত্তিকা বলছি,
আমার পুরো শরীরে গেঁয়ো ছাপ রয়েছে!
গ্রামীণ পরিবেশে আমি যেন অন্ধ-বদ্ধ-উন্মাদ রানি হয়ে বেঁচে আছি!
বয়স ষোল’র কোঠায়, গায়ের মুরুব্বিদের চোখে আমি বুড়ি হয়ে যাওয়া যুবতী!
বাড়িতে আসা-যাওয়া করা মহিলাদের চোখে ডাঙানো মেয়ে,
বেশ বড় হয়েছে এবার বিয়ে দিয়ে দাও।
ঘরে রেখে পুতুল সাজিয়ে রেখ না, অকল্যাণ বয়ে আনবে!
আমি অকল্যাণী, আমি কলুষিত যুগের কালো মেয়ে,
আমি আঁধার হতে আলো দেখেছি!
অমানবিক থেকে মানবিক দেখেছি!
এমন বাধা বিপত্তি ডিঙিয়ে মৃত্তিকা আমি।
আমাকে দমানোর জন্য সমাজ উন্মাদ!

আমাকে কখনও স্বাধীন ভাবে বাঁচতে শেখায়নি!
হ্যাঁ, আমি শিখেছি বাড়ির মহিলাদের গীবত বলার কৌশল,
তাদের হিংসাত্মক চোখ, আমাকে সাবধানতা অবলম্বনে চলতে হয়েছে,
কখনও অমানবিক বোধ জাগ্রত হয়নি।
আমি অজপাড়াগায়ের মৃত্তিকা বলছি
যেখানে মেয়ে বলতে বোঝে ঘরের পুতুল,
সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখো
বড় হলেই বিয়ে দিয়ে দাও
বেশি ডাগর হতে দিও না
সমাজে কলঙ্ক বয়ে আনবে!
ঘরের চৌকাঠে পা রাখলেও সাবধানী হয়ে পা রাখতে হয়
মেয়ে কেমন রোগাটে হয়ে যাচ্ছে
চেহারায় যেন একটুও মায়া নেই
এ মেয়ে সত্যিই অলুক্ষণে!
এই বিড়ম্বনায় বড় হওয়া আমি অজ পাড়া গাঁয়ের মৃত্তিকা বলছি!

 

প্রকৃতি মায়া

পদ্ম ফোটে, চন্দ্র হাসে
বিলের জলে মাছ।
জোনাকি খেলায় নিত্য নতুন
আধার বারো মাস।

স্বর্ণালী সন্ধ্যায় অলীক বেশে
যাচ্ছে খাঁচার পাখি উড়ে।
ফিরবে না আর রাত্রি ধরে,
ভোরের ডাকে ঘুম ভাঙাবে।

শূন্যে থাকি শূন্যে বাসা
অলীক বেশে ততই আশা!
মাটিতে পাই সুখের দেখা
মাটিতে গড়া দেহের চাকা।

দেশ বাংলার ইতিহাসে
নানান কথা বলছে তাতে।
গোয়াল ভরা ধান থাকত
সোনার যত্নে তা রাখত।
সুখের সীমা খুলে যেত
আধার ধরে গল্প হতো।

মাঘের শীতে কাটে সকাল
পিঠাপুলির খেলা এবার।
শিশির ভেজায় রসের হাঁড়ি
ঘোমটা দিয়ে যাবে বাড়ি।

 

আজসারাবেলা/এমজে/শিল্প সাহিত্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here