বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত আর নেই

0
31
বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত

সারাবেলা ডেস্ক: বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতায় নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রখ্যাত চিত্রনির্মাতা বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। পরিবার জানিয়েছে, সকালে ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর। ।

নির্দেশনারত বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত

বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের মৃত্যুতে দুই বাংলার সংস্কৃতিনুরাগীদের মাঝে শোক নেমে আসে । এ পরিচালকের মৃত্যুতে শোকবার্তা পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

শোকপ্রকাশ করে টুইট করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। মোদি লেখেন, ‘শ্রী বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত মৃত্যুতে আমি শোকাহত। ওঁর কাজ সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের কথা বলত। প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী এবং কবিও ছিলেন উনি। ওঁর পরিবার এবং অগুনতি গুণগ্রাহীর প্রতি আমার সমবেদনা জানাই। ওম শান্তি।’

এক শোকবার্তায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘ছোটবেলা থেকে বুদ্ধদার ছবি দেখছি। তাঁর দেশের, তাঁর ভাষার মানুষ হিসেবে গর্ববোধ করি। শিক্ষক মানুষ ছিলেন বুদ্ধদা। কবিও ছিলেন। সব থেকে উল্লেখযোগ্য, তাঁর মতো ভাল মানুষ আমি কম দেখেছি। নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয়। দু’বার বুদ্ধদার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।’

বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর জন্ম ১৯৪৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পুরুলিয়ার আনাড়ায়। নয় ভাইবোনের পরিবারে তিনি তৃতীয়। তাঁর বাবা তারাকান্ত দাশগুপ্ত পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। রেলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে কলকাতায় চলে আসেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। হাওড়ার দীনবন্ধু স্কুলে পঠনপাঠন শুরু। অর্থনীতি নিয়ে স্কটিশ চার্চ কলেজেও পড়াশোনা করেছেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ শ্যামসুন্দর কলেজে অধ্যাপনা করেছেন।

শিক্ষকতা ও সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের প্রতি অনুরাগ ছিলো। স্বপ্ন দেখতেন ছবি বানাবেন। এই তাগিদেই একসময় কলকাতা ফিল্ম সোসাইটির সদস্য হন। ১৯৬৮ সালে ১০ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র দিয়ে পরিচালনায় হাতেখড়ি। তারপর একে একে ‘দূরত্ব’, ‘নিম অন্নপূর্ণা’, ‘গৃহযুদ্ধ’, ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’, ‘স্বপ্নের দিন’, ‘উড়োজাহাজ’–এর মতো ছবি করেছেন । ‘বাঘ বাহাদুর’, ‘চরাচর’, ‘লাল দরজা’, ‘কালপুরুষ’–সহ একাধিক ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তিনি ।

 

আজসারাবেলা/এমজে/বিনোদন 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here