ছাতার আশ্রয়ে বৃষ্টি রুখি

0
366
বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে এখন প্রয়োজন ছাতার। ছবি : সংগৃহীত

সারাবেলা ডেস্ক: মা, আমার একটা ছাতার দরকার, বাইরে প্রখর রোদ আর ভেতরে ভীষণ শিলা বৃষ্টি, ছাতার আশ্রয়ে বাইরে না হয় রুখি… 
‘মা-কে লেখা চিঠি’ গানে ছাতার কথা বলেছিলেন তৎকালীন মনোসরণি  (বর্তমানে সোনার বাংলা সার্কাস) ব্যান্ডের প্রবর রিপন।

হুট করে ঝুম বৃষ্টি নেমে এলে মানুষ তখন আশ্রয় খোঁজে—আশেপাশে থাকা যাত্রী ছাউনিতে, গাছের নিচে অথবা কোনো টং দোকানের পলিথিন কিংবা ত্রিপলের নিচে। তবে ঝিরিঝিরি কিংবা ঝুম বৃষ্টির ক্ষেত্রে ছাতা হলো সবচেয়ে ভালো আশ্রয়ের নাম। বৃষ্টি পড়ছে, ছাতায় ‘টপটপ’ শব্দ হচ্ছে, আপনি হাঁটছেন। এ এক অন্যরকম ভালো লাগা, অন্যরকম অনুভূতি। শুধু কি তাই! বৃষ্টি আপনাকে আটকাতে পারল না।

কিছুদিন আগেই রেকর্ড গড়া গরম পড়েছিল। এখন আবার আগাম বর্ষা। রোদ এবং বৃষ্টি দুটোতেই ছাতার আশ্রয় দরকার। তবে বাঙালি রোদ সহ্য করতে পারলেও বৃষ্টির ফোঁটা সহ্য করতে পারে না। ইতিহাস বলছে, খ্রিষ্টজন্মের প্রায় ১২০০ বছর আগে মিশরে যে ছাতার চল হয়েছিল, তা ব্যবহৃত হতো রাজা-মহারাজা ও অভিজাতদের রোদ থেকে রক্ষার জন্য। রোদ ঠেকানো ছাতাকে বলা হতো ‘প্যারাসোল’। ‘আমব্রেলা’ বলে যে ছাতাটির সঙ্গে এখন আমাদের ঘনিষ্ঠতা, সেটি তৈরি হয়েছিল বৃষ্টি থেকে রেহাই পেতে।

যেহেতু আগাম বর্ষা, তাই বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে এখন প্রয়োজন ছাতার। যুগে যুগে ছাতার আকারে, আকৃতিতে এসেছে পরিবর্তন।  ছাতা এখন ফ্যাশনের অনুষঙ্গ। তাই ‘বাংলা ছাতা’র চল নেই বললেই চলে। তুলনামূলক ছোট চায়না ছাতাগুলোই এখন বাজার মাতিয়ে রেখেছে। কেননা চায়না ছাতাগুলো আকারে বাংলা ছাতার মতো বড় নয় এবং প্রয়োজন শেষে ভাঁজ করে সহজেই ব্যাগে পুরে রাখা যায়।

নবাবপুর, মোগলটুলীর ছাতার পাইকারি দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, চীনের তৈরি হরেক রকমের ভাঁজ করা ছাতা বিকোচ্ছে প্রচুর। এসব ছাতা দুই ভাঁজ ও তিন ভাঁজ করে রাখা যায়। ছাউনি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বিভিন্ন রঙের একরঙা ও নকশা করা প্যারাসুট কাপড়। মানভেদে দুই ভাঁজের ছাতার দাম ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা। তিন ভাঁজের ছাতার দাম ৩০০ থেকে ১০০০ টাকা। স্থান ও মার্কেটের ওপর নির্ভর করে দামের কিছুটা তারতম্য হতে পারে। আমদানিকারকেরা চীন থেকে এসব ছাতা এনে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নামে বাজারজাত করছেন। এটলাস, মুন, শংকর, রহমান—এসব প্রতিষ্ঠানের নামে চলছে ভাঁজ করা ছাতা।

বিক্রেতারা জানালেন, বাংলা ছাতা তৈরি হয় দেশেই। কাঠের বাঁটওয়ালা কালো সুতি কাপড়ের ছাউনি দেওয়া ২৬ ইঞ্চি ঘেরের ছাতার দাম ১৮০ টাকা। লোহার শিকের ৩০ ইঞ্চি ঘেরের বাংলা ছাতার দাম ৩৫০ থেকে ৭৫০ টাকা। বাংলা ছাতা বাজারে চলে কম। কিন্তু বাংলা ছাতা টেকে বেশি দিন।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোনাকাটার ক্ষেত্রে বাংলা ছাতা কিনে থাকে। এটাই বাংলা ছাতার প্রধান বিক্রি। ‘শরিফ ছাতা’, ‘ইজতেমা ছাতা’ ও ‘এটলাস ছাতা’ বাংলা ছাতার এই তিনটি প্রধান ব্র্যান্ড।

আপনার পছন্দের ছাতাটি মাথার উপর মেলে ধরে হাঁটতে হাঁটতে গুনগুন করে না হয় গাইলেন, আমার সারাটা দিন, মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি তোমাকে দিলাম… কেননা, বৃষ্টির সাথে যেমন ছাতার সম্পর্ক—তেমনি গানেরও।

আজসারাবেলা/এমজে/জীবন যাপন 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here