আয়শা জাহান নূপুরের তিন কবিতা

0
114

১. মনে করে নেব না কিছুই

যাবার আগে সব রেখে যাব।
আকাশে জমে থাকা রক্তজবা, দমকা হাওয়ার দিন, প্রজাপতি রং মাখা রৌদ্দুর, বৃষ্টির তানপুরা আর এই অলৌকিক আঁধার।
হুট খোলা রিকশা, কফির কাপ, ঘাসফুল কিংবা রবীন্দ্রনাথের বাঁধানো ফটোগ্রাফ।
আলমারি ভর্তি শাড়ি, বাহারি মালা আর টকটকে লাল টিপ।
ড্রেসিংরুমে পড়ে থাকবে অব্যবহৃত পারফিউম, রং বেরংয়ের চুড়ি অথবা সদ্য খোলা অন্তর্বাস, যাতে লেগে আছে গন্ধ বকুল।
যাবার আগে সব রেখে যাব।
বই মেলা, ছবির হাট, রবীন্দ্র সরোবর আর অপার আকাশ।
ব্যক্তিগত পাঠাগার, সফেদ ক্যানভাস, জমানো চিঠির গোপন তোরঙ্গ।
পরিচিত গলি, ঠোঙা ভর্তি বাদাম, রঙ্গিন ছাতা, আকাশ ঢাকা তুমুল বৃষ্টি।
গাছ ভর্তি টস টসে জামরুল, প্রিয় শৈশব, ধুলোবালি মাখা বকুনি সন্ধ্যা।
আমি যাবার আগে সব রেখে যাব।
শুকনো পাতার গান, কাচ ভাঙ্গা হাসি, মোহনীয় নারীকূল, মমতাময়ী মা।
পিতার ছেঁড়া শাট, বোনের কবিতা আর যা কিছু একান্ত তোমার।
প্রেমিকের প্রগাঢ় চুম্বন, দু’হাতের শিল্পকলা, অমৃত কথা আর অব্যর্থ সংলাপ।
উষ্ণ চাদরে ভাগাভাগি শীত ফেলে যাব নাটকপাড়ার ঝুপ করে নামা গল্পে।
অনেক জন্ম পড়ে পৃথিবীর মানুষ শুধু জানবে আমি ওফেলিয়া নয় রোজামন্ড হতে চেয়েছিলাম!

২. ব্যর্থ বনভূমিতে জন্মায় না কিছুই

আমাকে জন্মাবার সুযোগ দিয়েছ যেহেতু শুভেচ্ছাও দাও।
আমাকে হত্যা করো না, আমাকে হত্যা করলে মরে যাবে সমস্ত গোলাপ।
পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে যদি একজন মানুষ উঠে দাঁড়ায়, সে-ই মানচিত্র।
একটি শিশুও যদি ক্ষুধায় চিৎকার করে তবে সে-ই হবে আগামীর রাষ্ট্রনায়ক।
আমাকে জন্মাবার সুযোগ দিয়েছ যেহেতু আমাকে বাঁচতে দাও।
বৃক্ষের গায়ে করা প্রতিটি আঘাতে আমার রক্তক্ষরণ হয় ধর্ষিতার মতো।
পাথরে শরীরে করা হাতুড়ির আঘাত আমাকে ঘুমাতে দেয়না বহুদিন।
আমি লেডি ম্যাকবেথের মতো সারা রাত হেঁটে চলি আদি হতে অন্ত।
আমাকে জন্মাবার সুযোগ দিয়েছ যেহেতু আমাকে ভালোবাসো।
সৃষ্টি হতে আজ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে আছি শুধু একটি বার বসব বলে।
শুশ্রুষার জলে চুমুক দিয়ে একবার তোমার হৃদয়ে চোখ রাখব।
তারপর আমাকে হত্যা করো, যদি ভালোবাসতে ব্যর্থ হও!

৩. হয়তো প্রেমে নয়তো অপ্রেমে!

আমাকে ভালো না বেসে তুমি বরং ভালো করেছ!
ভালোবাসলে আমার একটা ঘর থাকত, ঘরে দু’একটা দরজা, জানালা থাকত, বাইরে এলোমেলো বাতাস থাকত।
মাঝেমধ্যে একটু আধটু হাওয়া আসত।
এখন আর এসবের কিছুই হয় না!
আমাকে ভালো না বেসে তুমি বরং ভালোই করেছ!
ভালোবাসলে ছোট্ট একটা সংসার হতো, দু’একটা ছানা হতো, যখন তখন কাপড় ভিজত।

তরকারিতে প্রায়ই লবণ কম হতো।

এখন আর এসবের কিছুই হয় না!
আমাকে ভালো না বেসে তুমি বরং ভালোই করেছ!
ভালোবাসলে শারীরিক প্রেম পানসে হতো, চোখের কথা হালকা হতো।
পরার শাড়ি মলিন হতো।
বুকের পাহাড় চূর্ণ হতো।
এখন আর এসবের কিছুই হয় না!
তবে তো ভালো না বাসাই ভালো!
তবে তো ভালো না বাসাই ভালো!

 

আজসারাবেলা/এমজে/কবিতা 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here