গরম-করোনা উপেক্ষা করে মার্কেটে মার্কেটে উপচেপড়া ভিড়

0
39

সারাবেলা রিপোর্ট: করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের মাঝেই জমে উঠেছে রাজধানীর শপিংমল-মার্কেট। তীব্র গরম এবং করোনার ঝুঁকি- দুটোই উপেক্ষা করে এসব স্থানে বিরাজ করছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। আর এতে বেশ খুশি বিক্রেতারাও।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি, এলিফ্যান্ট রোড ও নিউ মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায় ক্রেতাদের সরব উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। মূলত সকাল থেকেই ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও দুপুরের পর ভিড় আরও বাড়তে থাকে।

বিক্রেতারা বলছেন, এখন পর্যন্ত কেনাকাটা করতে যে ক্রেতারা আসছেন, তাদের অধিকাংশই পাইকারি ক্রেতা। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে খুচরা বাজারে বিক্রির জন্য কেনাকাটা করছেন তারা। দীর্ঘদিন দোকানপাট, মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ থাকায় অনেকেই কেনাকাটা করতে পারেননি। সেজন্যই এখন মার্কেটে বেশি ভিড়।


প্রতি মঙ্গলবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে খোলা রাখা হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার অধিকাংশ দোকান মার্কেট ও শপিংমল। নূর ম্যানশন মার্কেটের থান কাপড় ব্যবসায়ী ফরিদুল আলম সবুজ বলেন, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এতদিন মার্কেট বন্ধ থাকায় আমাদের বেশ আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ উঠাতে না পারায় এখন ঋণ করে আবার দোকান চালু করতে হয়েছে। তবে এখন বিক্রি কিছুটা ভালো। ঈদের আগ পর্যন্ত যদি এভাবে চলে তবে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যাবে।

ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে শাড়ি, থ্রি-পিসের দোকানগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় বিক্রয়কর্মী ও অন্যান্যদের। খাঁন ফেব্রিক্সের বিক্রয়কর্মী রিফাত হোসেন বলেন, এখানে খুচরা ক্রেতার চেয়ে পাইকারি ক্রেতার সংখ্যাই বেশি। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় অনেকেই মার্কেটে না এসে অনলাইনে কেনাকাটার আগ্রহী। তাই অনলাইন বাজার ধরতে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা শাড়ি, থ্রি-পিস ও ওড়না সংগ্রহ করছেন।


স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব ও মেনে চলার শর্তে খুলে দেওয়া হলেও এসব মার্কেট-শপিংমলে তা দেখা যায়নি। কেনাকাটার তোড়জোড়ে ক্রেতা-বিক্রেতা কাউকেই স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে দেখা যায়নি। অধিকাংশ দোকানই ছিল মানুষে ঠাসা। নেই সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই। শুধু মার্কেট-শপিংমলের ভেতরে দোকানই নয় বরং মানুষে ঠাসা ছিল নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে ফুটওভার ব্রিজের ভাসমান দোকানগুলোও। এসব ক্রেতারা বলছেন, আবারও কঠোর লকডাউনের আশঙ্কায় আগেভাগেই ঈদের শপিং সেরে নিচ্ছেন তারা।

হাজারীবাগ থেকে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের শপিং করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী হারেস আহমেদ। বললেন, করোনায় বিধিনিষেধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামের বাড়িতে যেতে পারিনি। এবার এই ঈদ গ্রামের বাড়িতে করার ইচ্ছা রয়েছে। তাই পরিবার-পরিজনের জন্য আগে থেকেই কেনাকাটা করে নিলাম। কখন আবার আবার লকডাউন হয়ে যায় বলা যায় না।

তবে নিউ মার্কেট, নুরজাহান সুপার মার্কেট, চাঁদনী চক শপিং কমপ্লেক্স, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, গ্লোব শপিং মল, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও ক্রেতার অভাবে এখনো জমে ওঠেনি সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং এলিফ্যান্ট রোডের মার্কেটগুলো। ক্রেতাশূন্য অবস্থায় এসব মার্কেটের বিক্রয়কর্মীদের অবসর সময় পার করতে দেখা যায়। বিক্রেতারা জানালেন, এখানকার অধিকাংশই পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট ও টি-শার্টের দোকান। মূলত ঈদের আরও সময় বাকি থাকায় এখনো মানুষজন এসব মার্কেটে ভিড় করছেন না। এখানকার মার্কেট জমজমাট হয় ঈদের সপ্তাহখানেক আগে থেকে।

বৃহত্তর এলিফ্যান্ট রোড ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সহ-সভাপতি এবং আল্পনা প্লাজার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বিল্লু বলেন, এখানকার দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। আশা করছি দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কেটে ক্রেতার সমাগম হবে এবং ঈদের আগেই বেশ জমজমাট হবে।

 

আজসারাবেলা/সংবাদ/দীব/জাতীয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here