করোনার বিধিনিষেধের শেষ দিন ঠেকানো যাচ্ছে না মানুষের বের হওয়া

0
59

সারাবেলা রিপোর্ট: দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল সরকার সাত দিনের বিধিনিষেধ ঘোষণা করে। প্রথম দুই দিন বিধিনিষেধ শক্ত হাতে বাস্তবায়ন করা হলেও বাকি দিনগুলোতে আস্তে আস্তে শক্তি হারায়।

বুধবার (২১ এপ্রিল) বিধিনিষেধের শেষ দিন একই অবস্থা চলমান রয়েছে। রাস্তায় বের হওয়া অধিকাংশ মানুষ বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করছেন না। যাদের জরুরি কাজ আছে তাদের সঙ্গে যাদের তেমন কোনো জরুরি কাজ নেই তারাও রাস্তায় বের হয়ে ঘুরাঘুরি করছেন। ফলে মানুষজনকে ঘরে আটকানো যাচ্ছে না।

বের হওয়া মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ বের হয়েছেন জীবিকার সন্ধানে। কেউ ঘরে থাকতে থাকতে একঘেয়েমি চলে আসায় রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে হাঁটতে এসেছেন। আবার অনেকে দেখা যায় চুপি চুপি চায়ের স্টলে ঢুকছেন চা পান করতে।

রাজধানীর গোপিপাড়া এলাকায় এমন একটি চায়ের স্টলে বসে কয়েক জনকে নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন। বিধিনিষেধে কেন চা দোকানে এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিধিনিষেধ মেইন রাস্তায়। অলিগলিতে কোনো বিধিনিষেধ নাই। পুলিশের গাড়ি না আসা পর্যন্ত কিছুক্ষণ বসে থাকব, চা খাব। পুলিশের গাড়ি গলিতে ঢুকলে সব বন্ধ হয়ে যাবে, আমরাও চলে যাব।

এদিকে প্রথম দিকে বিধিনিষেধে রাস্তায় রিকশা ও প্রাইভেটকারের রাজত্ব থাকলেও এখন সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে চুক্তিভিত্তিক মোটরসাইকেল সেবা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়কের মোড়ে মোড়ে দেখা যাচ্ছে চুক্তিভিত্তিক মোটরসাইকেল অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া রাস্তায় আবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে মাইক্রোর মাধ্যমে যাত্রী পরিসেবা। সব মিলিয়ে বলা চলে, রাজধানীতে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও এর বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন রকম যানবাহন যাত্রী আনা-নেওয়া করছে।


রাজধানীর গুলশান রামপুরা ব্রিজের কাছে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছেন চুক্তিভিত্তিক মোটরসাইকেল চালক সাদ্দাম হোসেন। রাইড শেয়ারিং সেবা বন্ধ থাকলেও মোটরসাইকেল নিয়ে কেন বের হয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, টানা সাত দিন ঘরে বসা ছিলাম। এখন আর পরিবার নিয়ে চলার মতো হাতে টাকা নাই। তাই বাইকটা নিয়ে বের হয়েছি, যদি কিছু ইনকাম করা যায়।

এদিকে রাজধানীর শাহজাদপুর এলাকায় মাইক্রোবাসে করে যাত্রী নিচ্ছেন মো. সিদ্দিকুর। বিধিনিষেধের নিয়ম ভেঙ্গে কেন এমন করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি উত্তরা যাব ব্যক্তিগত কাজে। ভাবলাম উত্তরা যাওয়ার কোনো যাত্রী থাকলে নিয়ে যাব। এতে আমারও দুটি পয়সা আয় হলো এবং যাত্রীরও উপকার হলো।

অন্যদিকে রাজধানীর মুগদা, শাজাহানপুর, খিলগাঁও ও কাঁটাবন এলাকায় একই চিত্র দেখা যায়। তবে এসব এলাকায় অফিসগামী যাত্রীদের সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়। যাতায়াতের যানবাহন পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে অফিসগামী যাদের পড়তে হচ্ছে অসুবিধায়।

রাজধানীর খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে রিকশা ও সিএনজির জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী মো. আয়নাল বলেন, আমি অফিসের কাজে উত্তর বাড্ডা যাব। কিন্তু এখান থেকে সিএনজি ভাড়া চাচ্ছে ৩০০ টাকা। সাধারণত ১৫০ টাকায় যাওয়া যায়। কিন্তু ২০০ টাকা বলার পরও রাজি হচ্ছে না যাওয়ার জন্য। এছাড়া রিকশায় ভেঙে ভেঙে গেলে পড়বে সাড়ে ৩০০ টাকার মতো। এত টাকা দিয়ে রাস্তায় এই দুঃসময়ে চলাফেরা করব কীভাবে?‌ যানবাহন বন্ধ রয়েছে এবং মানুষ রাস্তায় চলাফেরা করছে- এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু চালক গলাকাটা ভাড়া চাচ্ছেন।

এদিকে এসব এলাকায় অস্থায়ী পুলিশ চেকপোস্টের কর্মরত পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সম্পূর্ণরূপে চেষ্টা করছেন মানুষজন যেন বিধিনিষেধের নিয়মকানুন মেনে চলে। অনেকের কাছে সাড়া পাচ্ছেন, আবার অনেকে বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করছে না। ফলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে রাস্তায় সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন হচ্ছে না সরকারি বিধিনিষেধ।

আজসারাবেলা/সংবাদ/দীব/জাতীয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here