চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ বিজিএমইএ গড়ব : ফারুক হাসান

0
30

সারাবেলা রিপোর্ট: সাত বছর পর তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল লিডার ফারুক হাসান। বিজিএমইএ নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদ নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ায় তিনি পরবর্তী সভাপতি হতে যাচ্ছেন। দায়িত্ব নিয়ে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি। নির্বাচন পরবর্তী ঢাকা পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান তিনি।

নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান বলেন, করোনার মধ্যেও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে প্যানেলসহ আমাকের নির্বাচিত করায় আমি খুশি। প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচনে বিজিএমইএর সম্মান আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা। এজন্য বিজিএমইএর সব সদস্যদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত ফারুক হাসান বলেন, এখন প্রথম কাজ হচ্ছে বিজিএমইএকে ঐক্যবদ্ধ করা। প্রতিষ্ঠানটিকে সবার জন্য গড়ে তোলা। সবাইকে একমতে নিয়ে আসা। আমাকে কে ভোট দিয়েছে, কে দেয়নি এসব না দেখে পোশাক খাতের উন্নয়নে সবাই মিলেমিশে কাজ করা।

তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন টিম ওয়ার্কের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে। বর্তমান পরিস্থিতি টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাব। সব সদস্যের প্রত্যেকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সব সময় তাদের সমস্যা সমাধানে কাজ করব।

ফারুক হাসান বলেন, আগের কমিটি যে কাজগুলো করতে পারেনি সেগুলো শেষ করব। এরই ধারাবাহিকতায় সামনে এগিয়ে যাব। মোট কথা বিজিএমইএকে সামনে এগিয়ে নেব।

করোনা মোকাবেলা কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনার প্রথম ঢেউ শেষ হতে না হতেই দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হেনেছে। বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো শতভাগ রফতানিমুখী পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত। করোনার কারণে রফতানি কমেছে। ফলে আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এই মুহূর্তে করোনা মোকাবিলা করাই আমাদের চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় ব্যাংক ঋণ পরিশোধের সময় আরও বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরকার কাছে আবেদন জানাব। ঋণ আদায়ের সময় বাড়িয়ে দিলে ঋণের আকার ছোট হয়ে আসবে। ব্যবসায়ীরা আরও সহজে ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন।

সরকার যদি ব্যাংক ঋণ পরিশোধের সময় আরও বাড়িয়ে না দেয় তবে ব্যাংকে এলসি খোলা বন্ধ হয়ে যাবে। আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে যাবে। কারখানার উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যাবে। তাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে, বলেন তিনি।

সামনে রোজা ও ঈদ। এর আগে কারখানা শ্রমিকদের বেতন ও পাওনা পরিশোধ করতে হবে। এর জন্য সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হবে। সরকার যেন গতবারের মতো তিন-চার মাসের বেতন পরিশোধের প্রণোদনা ঘোষণা করে সেই আহ্বান জানাব।

করোনা মোকাবিলায় বিজিএমইএ বিশেষ কী পদক্ষেপ নেবে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলা ও শিল্প পুনরুদ্ধারে প্রণোদনার অর্থ এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ১৮ মাস থেকে বৃদ্ধি ও ঋণের কিস্তির আকার ছোট করার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে। এছাড়াও স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তার প্রস্তাব জানানো হবে।

তিনি বলেন, করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক কারখানাগুলো। এসব কারখানাগুলোর জন্য বাৎসরিক রফতানির পরিমাণ পাঁচ মিলিয়ন ডলার থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাগুলোকে প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসা যাবে।

তাদের জন্য ৪-৫ শতাংশ সুদে রিফাইনান্সিং স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে।ব্যাংক থেকে কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরী ও অনান্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে অবকাঠামো ও ভবন নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হবে। যাতে তারা স্বল্প মূল্যে ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করতে পারে। পেমেন্ট নিশ্চয়তার পাশাপাশি শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব।

বাজার সম্প্রসারণে কী ধরনের পদক্ষেপ থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন বাজারে পোশাক রফতানির জন্য প্রণোদনা ৪ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করার জন্য আহ্বান জানাব। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, রাশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা ও ভারতসহ সম্ভাবনাময় নতুন বাজারগুলোতে রোড শো আয়োজন ও মেলার আয়োজন করব। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় আমাদের পোশাকের শুল্কমুক্ত রফতানি নিশ্চয়তার জন্য কাজ করব। এছাড়াও ব্যবসা থেকে চলে যাওয়ার নীতিমালা করা হবে। বিজিএমইএতে প্রাণের সঞ্চার করা, বৈদেশিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধা এবং সর্বোপরি টেকসই শিল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

উল্লেখ্য, তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নির্বাচন রাজধানীর রেডিসন হোটেলে রোববার (৪ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ভোট গণনা শেষে রাত ১টায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনী পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাত আনোয়ার জানান, ৩৫ পরিচালক পদের মধ্যে ফারুক হাসানের সম্মিলিত পরিষদ ২৪ পদে বিজয়ী হয়েছে। আর এ বি এম সামসুদ্দিন ও ড. রুবানা হকের নেতৃত্বাধীন ফোরাম ১১ পরিচালক পদে বিজয়ী হয়েছে।

নির্বাচনে ঢাকায় এক হাজার ৮৫৩ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন এক হাজার ৬০৪ জন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম নির্বাচন কেন্দ্রে ৪৬১ ভোটের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৯২ জন। ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোট এক হাজার ৯৯৬টি ভোট কাস্ট হয়েছে। নির্বাচনে ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি এক হাজার ২০৪ ভোট পেয়েছেন ফারুক হাসান। দ্বিতীয় হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ড. রুবানা হক। তিনি পেয়েছেন এক হাজার ১৫৭ ভোট। তৃতীয় হয়েছেন এস এম মান্নান কচি। তিনি পেয়েছেন এক হাজার ৭৮ ভোট। এক হাজার ৬৮ ভোট পেয়ে এম এ রহিম (ফিরোজ) চতুর্থ হয়েছেন।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/রাজধানী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here