ভিসি কলিমুল্লাহর দুর্নীতির ৭৫৮ পৃষ্ঠার ১১১ দুর্নীতির ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ আজ

0
71

সারাবেলা রিপোর্ট: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে আজ শনিবার। শিক্ষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে ভিসির দুর্নীতির একাংশ প্রকাশ পাবে। আর সুষ্ঠু তদন্ত হলে আরও দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে।

আজ শনিবার (১৩ মার্চ) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৃহৎ সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভিসি কলিমুল্লাহর দুর্নীতির ৭৫৮ পৃষ্ঠার শ্বেতপত্র প্রকাশ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটিই বৃহৎ লিখিত দুর্নীতির তালিকা, যা ভিসির বিরুদ্ধে প্রকাশ হতে যাচ্ছে।

অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক মতিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ভিসি নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ অসংখ্য দুর্নীতি করেছেন। আমরাও তার অনেক দুর্নীতি সম্পর্কে জানি। যেসব দুর্নীতির ডকুমেন্ট আমাদের কাছে আছে শুধু সেগুলো প্রকাশ করা হচ্ছে। এগুলো তার দুর্নীতির খণ্ডিত অংশ, সামনে আরও তালিকা প্রকাশ করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে আশা করব মিডিয়ায় যেসব অভিযোগ প্রকাশ পাবে তা যেন খতিয়ে দেখা হয়। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় আনা হয়।

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, ভিসির দৃশ্যমান দুর্নীতির অংশ প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি আমাদের অগোচরে অসংখ্য দুর্নীতি করেছেন। যা সুষ্ঠু তদন্ত হলে বেরিয়ে আসবে।

এদিকে উপাচার্য কলিমউল্লাহর দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে আগামীকাল রোববার (১৪ মার্চ) ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্রের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ক্যাম্পাসে আসছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত জন শিক্ষক শিক্ষামন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওই অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই ঢাকার মোহাম্মদপুরে আফরোজা গার্ডেন নামে একটি বাসার দোতলায় লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে উপাচার্যের নিজস্ব শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিষেধ। সেখানে বসেই উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, ভাউচার বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্যসহ সব অপকর্মের প্ল্যান করেন। শিক্ষকরা এর নাম দিয়েছেন ‘কলিমউল্লাহর দুর্নীতির হাওয়া ভবন’।

অভিযোগে জানা যায়, উপাচার্য কলিমউল্লাহ নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে সব ধরনের সভা করেন ঢাকা অফিসে। অর্থ কমিটির সভা, সিন্ডিকেট সভা, শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড, কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ বোর্ড, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের আপগ্রেডেশন, প্রমোশন বোর্ড এবং ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সব ধরনের সভা; গবেষণারত শিক্ষার্থীর ক্লাস, সেমিনার, কনফারেন্স লিয়াজোঁ অফিসে করা হচ্ছে। এ জন্য বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার জন্য শত শত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সেখানে যেতে বাধ্য করছেন উপাচার্য। এ খাতে অতিরিক্ত কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

অতিরিক্ত ব্যয় না করে উপাচার্যকে এসব কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসে সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে ২০১৯ সালের ১৬ মে ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মো. রেজাউল করিম হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সভা ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ডিএ/টিএ খাতে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। এই ব্যয় কমানোর অনুরোধ জানানো হলো।’ কিন্তু ইউজিসির এই নির্দেশনা মানেননি উপাচার্য। পরে ২০২০-২১ অর্থবছরে ২০২০ সালের ১৩ মে ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচারক মো. শাহ আলম স্বাক্ষরিত পর্যবেক্ষণে ঢাকায় লিয়াজোঁ অফিসে অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর জন্য পুনরায় উপাচার্যকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু উপাচার্য তা উপেক্ষা করেন।

লিখিত অভিযোগে আরও জানা গেছে, উপাচার্য একাধারে ঢাকায় অবস্থান করলেও প্রতি তিন দিনের ব্যবধানে রংপুর থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে রংপুরে যাতায়াতের বিল উত্তোলন দেখিয়েছেন প্রায় ৩৮ লাখ টাকার মতো। শুধু তাই নয়, তিনি অগ্রিম ডিএ/টিএ উত্তোলন করেছেন বলেও অভিযোগে জানা গেছে।

 

আজসারাবেলা/সংবাদ/দীব/জাতীয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here