নাসির, বিয়ে করা অন্যায় নয়, ‘অন্যের বউকে করা’ অন্যায়

0
225

জব্বার হোসেন:
ডাবল সিম আর ডুয়েল রিলেশন এখন রীতিমত ট্রেন্ডি একটা ব্যাপার। কারো কাছে ফ্যাশন এবং প্যাশন- দু’টোই। ট্রেন্ডিং হলেই যে কোন কিছু ভালো অমন ভাবার কোনই কারণ নেই। ট্রেন্ডিং টপিক সার্চ দিলে দেখবেন- হিরো আলম, হেলেনা জাহাঙ্গীর, সেফুদা, সানাই মাহবুব থেকে শুরু করে ‘তাবৎ আখাস্তা’ জিনিসপত্রের শেষ নেই। অভাবও নেই।

আগে এসব সম্পর্ক সিক্রেট ছিল। এখন ওপেন সিক্রেট। পার্থক্য শুধু এতটুকুই। এখন ছেলে এবং মেয়ে কে কতটা এসব মেইনটেইন করতে পারে তা তাদের অনেকের কাছে ‘ক্রেডিট’। ক্রেডিট সকল অর্থেই- লাভজনক। যদিও তা নিতান্ত তাদের বিষয়। এখন কোন মেয়ে বা ছেলে ডুয়েল রিলেশন ‘মেইনটেইন’ করতে না পারা কারো কারো ভাষায়- ডিসক্রেডিট। মেয়েরা-ছেলেরা এখন একটু অভিজ্ঞ খোঁজে। বলে ‘ম্যাচিউর’ না, ম্যাচিউর হলে ভালো হয়। এই ম্যাচিউরের অনেক অর্থ, সবটা আমার নিজেরও জানা নেই।

ডুয়েল রিলেশনের অনেক সুবিধের কথাও শোনা যায়। একজনকে না পেলে অন্যজন, একসঙ্গে দুজন, একই সঙ্গে একাধিক, দুদিক থেকেই পাওয়া, কখনোই খালি থাকতে হয় না, আবার দু’জনের তুলনা, কারটা কেমন- এসবতো রয়েছেই।

নাসির-তামিমার সম্পর্কটাও হয়তো অনেকটা এমন। তামিমার স্বামী হঠাৎ আবিস্কার করলেন তার স্ত্রীর হাজব্যান্ড নাসির। স্ত্রীর আরেকজন হাসব্যান্ড রয়েছে! অথার্ৎ তামিমা মেয়েটি একই সঙ্গে দু’জনকে মেইনটেইন করছিলেন। ডুয়েল রিলেশন যাকে বলে। হয়তো তামিমার কাছে এটা ক্রেডিট- অন্য অনেকের মতো। তবে নাসির যা করলেন সেটিও অন্যায়। বিয়ে তিনি করতেই পারেন, যাকে ইচ্ছে তাকে পারেন। তবে তা অন্যের বউকে নয়- নিশ্চয়ই।

রতনে রতন চেনে। নাসিরও মিডিয়ায় দিব্যি বলে বেড়াচ্ছেন- ‘আমি সবকিছু জেনেই করেছি’। তার মানে ‘পরের বউকে’ তিনি বিয়ে করেছেন জেনেশুনেই। এটা হয়তো নাসিরের কাছেও আরেক ক্রেডিট। এটা যে অসভ্যতা ও আইনত দণ্ডনীয় সেটাও জ্ঞাত থাকা উচিত জাতীয় পর্যায়ের এই ক্রিকেটারের।

আমাদের বসবাস যে সমাজে তা অসভ্যতায় ঠাসা। অন্যায়কে অন্যায় মনে হয় না। এই ‘না হওয়া’ যে অসুস্থতা তা বুঝতে পারি না। অর্থ, ভোগবাদিতা আর স্বার্থের বাইরে চিন্তাও করতে পারি না। ঘরে মিথ্যা বাইরে মিথ্যা। বিকৃতিতে আনন্দ পাই, বিপন্নবোধ করি না। রিলেশন আছে কমিটমেন্ট নেই।

এদিকে রাকিবও তার স্ত্রীর আরো আরো বয়ফেন্ড, কার সঙ্গে কী ছিল বা আছে টাইপ ন্যারেশন বেইজড ইন্টারভিউ দিয়েই যাচ্ছেন একের পর এক ইউটিউব চ্যানেলে, সে বেচারাও ভাইরাল। যার স্ত্রীর, স্বামী থাকাকালীন ‘চৌদ্দ বয়ফেন্ড’ বা যার স্বামীর, স্ত্রী থাকাকালীন ‘চৌদ্দ গার্লফ্রেন্ড’ তারা আসলে অফিসিয়ালি হাসব্যান্ড বা ওয়াইফ ব্যাপারটা অউন করেন কি না সেটাও ভাববার বিষয়।

তবে ‘তামিমা-নাসির’ কিংবা ‘তামিমা-রাকিব’ টাইপ সম্পর্কের এ শহরে ছড়াছড়ি। গাছেরটা খাবো আবার তলারটাও কুড়াবো। আমাদের চারপাশের এমন আরো আরো ‘ডুয়েল রিলেশনের কিচ্ছা’ না হয় অন্য আরেকদিন বলবো। তবে স্যোশাল মিডিয়ায় যারা নাসিরকে সমর্থন করে খুব লিখছেন- ‘পারো ম্যান’, ‘ইউ ডিড গাই, কংগ্রেস’, ‘বিয়েইতো করেছে’- তারা আসলে নাসিরের চেয়েও অসভ্য। অন্যের বউকে যে বিয়ে করা যায় না, ডির্ভোস নিতে হয়- এই বোধটিই তাদের নেই।

আর যারা তামিমার পক্ষে নারী স্বাধীনতা, নারীর অধিকার বলে চিৎকার করছেন, তারা অশ্লীল-অসভ্যই নন কেবল, বিকারগ্রস্থও বটে। কেননা স্বামীকে ডির্ভোস না দিয়ে অন্য আরেকজনকে বিয়ে করা শ্লীল-অশ্লীলের বিষয় নয়, অবৈধ ও বেআইনী- ক্রিমিনাল অফেন্স। দণ্ডবিধির ৪৯৪ ও ৪৯৭ ধারানুযায়ী, কেউ জেনে শুনে, অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করলে সেই বিয়ে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী সম্পূর্ণ বাতিল বিয়ে। ৪৯৭ ধারায় ব্যভিচার হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড সঙ্গে অর্থদণ্ডও হতে পারে। এই আইন কেবল নারীর জন্য নয় পুরুষের জন্যও প্রযোজ্য। স্বামী সন্তান থাকাকালীন তামিমার ‘আরো স্বামী গ্রহণ’- রীতিমতো নষ্টামীকে সমর্থন।

ভালো কথা কম বেশি সবাই জানে। মানুষ বিশ্বাস করতে চায় কাজে। দেখতে চায় সততা-সমতার প্রশ্নে আমরা কে কতটা সামর্থবান, যতœবান, শ্রদ্ধাশীল? সিম দুটো কেন চারটা থাকুক সমস্যা নেই। কিন্তু ডুয়েল ক্যারেক্টার, ডুয়েল রিলেশন মেইনটেইন করবেন, অন্যকে ঠকাবেন- একদিন ঠকবেন নিজেই।

লেখক : সম্পাদক, আজ সারাবেলা। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, মিডিয়াওয়াচ। পরিচালক, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভলপমেন্ট জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশন। সদস্য, ফেমিনিস্ট ডটকম, যুক্তরাষ্ট্র।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/কলাম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here