‘বাংলা’ অমর হোক- অক্ষরে, শব্দে, শুদ্ধতায়

0
138

রবিউল ইসলাম রবি:

”ইংরাজিতে কথা বলতে না পারার জন্য
ওই মানুষটির ভেতরে কোনও লজ্জা ছিল না,
বরং মাতৃভাষায় কথা বলতে পারার অহমিকায়
মানুষটিকে যেন উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখেছিলাম,
আমার ভেতরে সেই অভিজ্ঞতার যন্ত্রণা
একটা কান্না হয়ে গুমরে গুমরে উঠছিল,
আমার মনে হচ্ছিল-
আমার কোনও মাতৃভূমি নেই,
আমার কোনও মাতৃভাষা নেই,
আমি যেন এক শিকড়বিহীন চিরবিদেশী !
তাই- মাতৃভাষার জন্য যারা জীবন দেয়
তারা কেমন মানুষ
আজ আমার ভীষণ জানতে ইচ্ছে করে,
আমার বুকের মধ্যে
সেই বাংলাদেশের জন্য
সেই বাংলা ভাষার জন্য
একটুখানি বাঙালী হয়ে ওঠার জন্য
একটা ভয়ংকর যন্ত্রণা টনটন করে ওঠে!

সৃজন সেনের কবিতার এই পংক্তিগুলোয় বাংলা ভাষার প্রতি গভীর প্রেম লক্ষ্য করা যায়। যে প্রেমে আছে আবেগ, বিচ্ছেদ, ছুঁতে না পারার ভয়ংকর যন্ত্রণা। যা বুকের ভেতর টনটন করে। মাতৃভাষার জন্য। বাংলা ভাষার জন্য।

বাংলা ভাষার সঙ্গে একুশে ফেব্রুয়ারি আষ্টেপৃষ্ঠে রয়েছে। যে ২১ ফেব্রুয়ারি এখন মাতৃভাষা দিবস থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পুলিশের গুলিতে জীবন দেন সালাম-বরকত-রফিক-জব্বার আরও কত নাম না-জানা শহীদেরা, তাদের আত্মত্যাগেই আজ আমরা ফিরে পেয়েছি আমাদের প্রাণের ভাষা ‘বাংলা’।

মাতৃভাষা থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি ‘বাংলা ভাষা’কে বিশ্ব দরবারে দিয়েছে মর্যাদার স্থান যা বাংলাদেশের জন্য, বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য সম্মান ও গৌরবের।

২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পেছনে কানাডার বহুজাতিক ও বহুভাষিক সংগঠন ‘মাতৃভাষা-প্রেমিকগোষ্ঠী’র দুই সদস্য কানাডা প্রবাসী বাঙালি আবদুস সালাম ও রফিকুল ইসলামের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তারাই প্রথম ১৯৯৮ সালের ২৯ মার্চ জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ নামে একটি দিবস ঘোষণার প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। সেখানে তাঁরা উল্লেখ করেন, বাঙালিরা তাদের মাতৃভাষাকে রক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভাষার অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে তারা জীবন দিয়েছে। কাজেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের জন্য দাবিটি খুবই ন্যায়সংগত।

সেই প্রস্তাবনায় সাত জাতি ও সাত ভাষার ১০ জন সদস্য স্বাক্ষর করেছিলেন।

ইতিহাস বিশ্লেষনে দেখা যায়, বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পাবার ভিত তৈরী হয়েছিল দেশভাগের পরের বছর। ১১ মার্চ ১৯৪৮ সালে। ’৪৮-এর ১১ মার্চ রাষ্ট্র ভাষার দাবি নিয়ে যে আন্দোলন শুরু হয়, ’৫২-এর ২১শে ফেব্রুয়ারিতে তা পূর্ণতা পায়।

সেদিন ছিল ভাষা সংগ্রামের ইতিহাসে সংগঠিত প্রথম গণবিক্ষোভ। বিক্ষোভ, মিছিল আর পুলিশের লাঠিচার্জে ঢাকা বিক্ষোভের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। গ্রেপ্তার ও পুলিশি জুলুমের প্রতিবাদে ১২, ১৩ ও ১৪ মার্চ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়েছিল।

১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস দলীয় বাঙালি সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত একটি প্রস্তাব তোলেন। প্রস্তাবে বলেন, উর্দু ও ইংরেজির সঙ্গে বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের অধিকার থাকতে হবে। যুক্তি উপস্থাপন করেন, পাকিস্তানের পাঁচটি প্রদেশের ৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষের মধ্যে ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাংলা ভাষাভাষী। সুতরাং বিষয়টিকে প্রাদেশিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাংলাকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ভাষা হিসেবে দেখা উচিত। তাই তিনি গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজীর পাশাপাশি বাংলা ভাষাকেও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভূক্তির দাবি তোলেন।

অবশ্য এরও আগে থেকেই পূর্ব বাংলায় অফিস-আদালতে ‘বাংলা’কে ভাষা ও শিক্ষার মাধ্যম করার জন্য ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে আন্দোলন শুরু হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারি মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ বাঙালি পার্লামেন্ট সদস্যদের একাংশ এর পক্ষে সমর্থন দিলেও প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান, পুনর্বাসনমন্ত্রী গজনফর আলী খান, পূর্ব বাংলার প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন এবং গণপরিষদের সহ-সভাপতি তমিজউদ্দিন খান।

প্রস্তাবটি গৃহীত না হওয়ার প্রতিবাদে ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়। ঢাকার ছাত্র সমাজ বাংলা ভাষার দাবিতে শ্লোগান দিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। সেই মিছিলে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায়, সরকারি ভাষার তালিকা থেকে বাংলাকে বাদ দেয়া, পাকিস্তানের মুদ্রা ও ডাকটিকিটে বাংলা ভাষা ব্যবহার না করা এবং নৌবাহিনীর নিয়োগ পরীক্ষা থেকে বাংলাকে বাদ দেয়ার প্রতিবাদে ১১ মার্চ সমগ্র পাকিস্তানে সাধারণ ধর্মঘট পালন এবং দাবি করা হয়, বাংলাকে অবিলম্বে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা এবং পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হোক।

১৯৪৮ সালের পহেলা মার্চ প্রচারমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়ে ১১ মার্চের হরতাল সফল করার আহবান জানানো হয়। সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন অধ্যাপক আবুল কাশেম, শেখ মুজিবুর রহমান, নঈমুদ্দীন আহমদ এবং আবদুর রহমান চৌধুরী। জাতীয় রাজনীতি এবং রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এ বিবৃতির গুরুত্ব অনেক।

হরতালের দিন সরকারি পুলিশ বাহিনীর হামলায় ২০০ জন আহত হন, গুরুতর আহত ১৮ জন এবং শামসুল হক, কাজী গোলাম মাহবুব, শেখ মুজিবুর রহমান, শওকত আলী, অলি আহাদসহ ৯০০ জন ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয় (১৩ মার্চ, ১৯৪৮ অমৃতবাজার পত্রিকা)। স্বাধীন পাকিস্তানের রাজনীতিতে এটিই বঙ্গবন্ধুর প্রথম গ্রেপ্তার।

১৩ মার্চ আবার হরতাল পালিত হয় এবং ২৫ মার্চ পর্যন্ত হরতাল অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ১৫ মার্চ পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক আইন পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকায় সংগ্রাম পরিষদের নেতারা ধর্মঘট সফল করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। ১৫ মার্চের ধর্মঘটে ছাত্র-ছাত্রী ছাড়াও সচিবালয়, রমনা এলাকার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি রেল কর্মচারীরাও ভাষার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এভাবে ভাষার দাবিতে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করায় পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে ‘আপোসরফা’ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ফলশ্রুতিতে ১৫ মার্চ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ও নাজিমউদ্দীনের মধ্যে আট দফা দাবি সম্বলিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির দাবীগুলো ছিল-

১. ভাষা আন্দোলনে ধৃত বন্দীদের অবিলম্বে বিনাশর্তে মুক্তি দিতে হবে।

২. পূর্ব বাংলার আইনসভা এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে যে, পূর্ব বাংলার অফিস আদালতের ভাষা এবং শিক্ষার মাধ্যম হবে ‘বাংলা’।

৩. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সুপারিশ করে পূর্ব বাংলার আইনসভা বিশেষ প্রস্তাব গ্রহণ করবে।

৪. ভাষা আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না।

৫. পুলিশকর্তৃক ভাষা আন্দোলনকারীদের অত্যাচারের অভিযোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে বিবৃতি দেবেন।

৬. সংবাদপত্রের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।

৭. ২৯ ফেব্রুয়ারি হতে পূর্ব বাংলার যেসব স্থানে ভাষা আন্দোলনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে- তা প্রত্যাহার করা হবে।

৮. ভাষা আন্দোলনকারীরা পাকিস্তানের শত্রু নয়, মঙ্গলকামী বলে বিবৃতি দিতে হবে।

চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার পূর্বে আবুল কাসেম, কামরুদ্দিন আহমদসহ নেতাকর্মীরা ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে আটক থাকা শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদ, শওকত আলী, কাজী গোলাম মাহবুব প্রমুখ ছাত্র-নেতার সঙ্গে দেখা করেন; তাদেরকে চুক্তির দাবীগুলো দেখিয়ে বর্ধমান হাউসে সরকারের পক্ষে খাজা নাজিমুদ্দীন এবং সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে কামরুদ্দীন আহমদ চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন।

১৯ মার্চ বিকালে ঢাকায় আগমন করেন তৎকালীন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল কায়দে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক সংবর্ধনা সভায় তিনি ঘোষণা করেন- ‘ উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’।

এদিকে চার বছর পর ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পল্টনের এক জনসভায় খাজা নাজিমুদ্দিন পুনরায় ঘোষণা করেন- ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। এ ঘোষণা ছিল পূর্বের চুক্তির খেলাপ।

খাজা নাজিমুদ্দিনের ঘোষণার প্রতিবাদে ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ ধর্মঘট ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সর্বদলীয় কর্মপরিষদের উদ্যোগে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শহরে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষোভ মিছিল করে; বিকেলে এক জনসভায় সরকারের চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের নিন্দা ও বাংলা ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এবং সর্বসম্মতিক্রমে পরবর্তী ২১শে ফেব্রুয়ারি পূর্ব-পাকিস্তানব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এদিকে ২০ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে এক মাসের জন্য পুরো ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে সরকার। ধর্মঘটকে সফল করতে ১৪৪ ধারা বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়। তখন কর্মপরিষদের জরুরি সভায় গণতান্ত্রিক উপায়ে ১৪৪ ধারা না ভেঙে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

একুশে ফেব্রুয়ারির দিন বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা শহরের ছাত্রছাত্রীরা ঐতিহাসিক আমতলায় জড়ো হয়। সর্বদলীয় কর্মপরিষদের পক্ষ থেকে শামসুল হক ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দ্যেশে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালানোর আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে অব্যাহতভাবে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের প্রতিবাদী মিছিল বের হতে থাকে।

প্রতিবাদী মিছিলের গতিরোধ করতে, সরকারি পক্ষ থেকে পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানো গ্যাস, আর গুলিবর্ষণ চলতে থাকে । সেই গুলিতে বাংলা ভাষার জন্য শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরো ক’জন।

বাঙালির রক্তের বিনিময়ে রচিত হলো ভাষা আন্দোলনের এক অনন্য অধ্যায়। প্রকৃতপক্ষে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের উত্তাল জোয়ার ছিল ২১, ২২, ২৩ এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি অবধি। পরে পুলিশি নিষ্পেষণে তা স্থিমিত হয়ে আসে। এই আন্দোলনের জোয়ার শুধু ঢাকা শহরেই ছিল না, ছিল তৎকালীন গোটা পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে।

গণআন্দোলনের মুখে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করে ১৯৫৪ সালের ৭ মে পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে ‘অন্যতম রাষ্ট্রভাষা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানের ২১৪ নং অনুচ্ছেদে ‘বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ হিসেবে উল্লেখ করে।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চের সিঁড়ি বেয়েই ’৫২’র ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন এবং পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলন। যার চূড়ান্ত পরিণতি ১৯৭১ সালে ‘বাংলা’কে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

তাই প্রত্যাশা, প্রাত্যহিক জীবনে বাংলা থেকে দূরে না গিয়ে বাংলায় আষ্টেপৃষ্ঠে থাকি। ভয়ঙ্কর যন্ত্রনার টনটনানি যেন আমাদের না ছোঁয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

আসুন, আমরা সকল বাংলা ভাষাভাষীরা মিলে আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত ‘বাংলা ভাষা’র মর্যাদা রক্ষা করি- অক্ষরে, শব্দে, শুদ্ধতায়।

লেখক: প্রতিবেদক, আজ সারাবেলা

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/কলাম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here