কমেছে চাল ও খোলা সয়াবিনের দাম

0
113

সারাবেলা রিপোর্ট: চালের দাম আরও কমেছে। কমেছে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দামও। গত সপ্তাহের তুলনায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। স্বস্তি বিরাজ করছে সবজির বাজারেও। রাজধানীর কাওরান বাজার, মগবাজার কাঁচাবাজার, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

চাল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চিকন, মোটা ও মাঝারি এই তিন ধরনের চালের দামই কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় মোটা চালের দাম কমেছে কেজিতে ২ করে। এছাড়া চিকন ও মাঝারি চালের দাম কেজিতে কমেছে ১ টাকা করে। খুচরা ব্যবসায়ীরা মোটা চাল বিক্রি করছেন ৪৩-৪৮ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে এই চাল ৪৫-৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬৫ টাকা কেজি। মাঝারি চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়।

এ প্রসঙ্গে কাওরান বাজারের চাল ব্যবসায়ী আবু ইউসুফ বলেন, বাজারে চালের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে দাম কমে আসছে। আমদানিকৃত চাল আসতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহে দাম আরও কমতে পারে।

এদিকে বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৩০-১৩৫ টাকা। পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১১৫-১২০ টাকা। তবে এক লিটার ওজনের বোতলজাত সয়াবিনের দাম বেড়েছে। আগের সপ্তাহে এক লিটার সয়াবিন বোতল ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে সেই বোতলের দাম রাখা হচ্ছে ১৩০ টাকা। খুচরা পর্যায়ে বোতল পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ৫৬০-৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহেও এই সয়াবিন একই দামে বিক্রি হয়েছিল।

মানিকনগর এলাকার ব্যবসায়ী রব্বান আলী বলেন, খোলা সয়াবিন এখন ১২০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। গত সপ্তাহে এই সয়াবিন ১৩০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। সয়াবিনের পাশাপাশি পাম অয়েলের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে সুপার পাম অয়েলের কেজি ছিল ১২০ টাকা, এখন তা ১১০ টাকায় বিক্রি করছি। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম কমেনি। বরং এক লিটার বোতল সয়াবিনের দাম বেড়েছে।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবি’র হিসাবে, গত এক মাসে সব ধরনের পাম ও সয়াবিনের দাম বেড়েছে। এরমধ্যে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম বেড়েছে ১২ শতাংশ। খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ।

সয়াবিন তেলের দাম নিয়ে কথা হয় পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী গোলাম মাওলার সঙ্গে। তিনি বলেন, শীতের সময় সয়াবিন জমাট বেঁধে যায়। ফলে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো মিল গেটেই দাম বাড়িয়ে দেয়।

মানিকনগর এলাকার সবজি ব্যবসায়ী আকবর আলী বলেন, শীতের সবজির সরবরাহ ভালো। পেঁয়াজ ও আলুতে ভরপুর বাজার। ফলে সব জিনিসের দাম কমে এসেছে। তিনি গত সপ্তাহের মতো ভালো মানের পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি করছেন ২০-৩০ টাকা, শিম ২০-৪০ টাকা কেজি। ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ১০-২০ টাকা। এছাড়া মুলা ১০-১৫ টাকা, গাজর ৩০-৫০ টাকা, বেগুন ২০-৩০ টাকা, উচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে বড় লাউ।

সবজির পাশাপাশি স্বস্তি দিচ্ছে আলু ও পেঁয়াজের দাম। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে আলুর দাম কমেছে ৪৮ শতাংশ। পেঁয়াজের দাম কমেছে ৩৯ শতাংশ। রসুনের দাম কমেছে ১৫ শতাংশ। ভালো মানের নতুন আলুর কেজি ২০ টাকার মধ্যে। ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। ২০ টাকা কেজি পাওয়া যাচ্ছে আমদানি করা পেঁয়াজ।

অবশ্য দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে ব্রয়লার মুরগি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৫ টাকা। ১২৫ টাকা কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা দরে।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/অর্থনীতি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here