ভুয়া সনদধারী ১৪ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

0
74

সারাবেলা ডেস্ক : ভুয়া সনদধারী ১৪ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই ১৪ জনের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমঅ্যান্ডডিসি) রেজিস্ট্রারও রয়েছেন। অভিযুক্তরা জাল এমবিবিএস সনদ ব্যবহার করে নিবন্ধন করে জনগণকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলো।

বুধবার (২ ডিসেম্বর) দুদকের উপ-পরিচালক মোছা. সেলিনা আখতার মনি বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করে ভুয়া সনদ ব্যবহারের মাধ্যমে এমবিবিএস ডাক্তার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন সনদ গ্রহণ ও ব্যবহারের মাধ্যমে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৫/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের ২ নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন ও রেজিস্ট্রার মো. জাহিদুল হক বসুনিয়া। বাকিরা হলেন- মো. ইমান আলী, সুদেব সেন, তন্ময় আহমেদ, মো. মাহমুদুল হাসান, মো. মোক্তার হোসাইন, মো. আসাদ উল্লাহ, মো. কাউসার, রহমত আলী, শেখ আতিয়ার রহমান, মো. সাইফুল ইসলাম, ও মো. আসলাম হোসেন ও মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, অভিযুক্ত ভুয়া ডিগ্রিধারীরা চীনের তাইশান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস পাশ করেছেন মর্মে জানান। তারা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া এমবিবিএস সনদ ব্যবহার করে বিভিন্ন তারিখে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত রেজিস্ট্রেশন কোয়ালিফাইং পরীক্ষায় অংশ নেন। এ ক্ষেত্রে তারা বিএমঅ্যান্ডডিসি কর্তৃক অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মর্মে চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন নম্বর গ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন অনুশীলন করেন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন।

কিন্তু রেকর্ডপত্র যাচাইকালে দেখা যায়, তাদের এমবিবিএস সার্টিফিকেটগুলো ভুয়া। সে মোতাবেক তাদের এমবিবিএস সনদের সঠিকতা যাচাই করার জন্য সনদপত্রগুলোর ছায়ালিপি দুদক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাইশান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়। তদপ্রেক্ষিতে চীনের বেইজিংস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ওই সনদপত্রগুলো যাচাইপূর্বক বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইস্ট এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক সেকশনে বিগত ২১-০১-২০১৯ তারিখে দুদকে রেকর্ডপত্র পাঠায়।

প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন তাইশান মেডিকেল ইউনিভাইসটি কর্তৃপক্ষের মতে উল্লিখিত ১২ জন এমবিবিএস ডিগ্রিধারীর এমবিবিএস সনদ ভুয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here