আলী যাকেরের দাফন সম্পন্ন

0
100

সারাবেলা ডেস্ক : বরেণ্য অভিনেতা, ব্যবসায়ী ও কলামিস্ট আলী যাকের ক্যান্সারের সঙ্গে চার বছরের লড়াই শেষে চির বিদায় নিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বরেণ্য অভিনেতা। তিনি স্ত্রী, দুই সন্তান এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

এদিকে, শুক্রবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে আলী যাকেরের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে। সেখানে গার্ড অব অনার জানানো হয় তাকে। পরে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বনানী কবরস্থানে। বাদ আসর জানাজা শেষে দাফন করা হয় তাকে। মৃত্যুর আগে করোনা পজিটিভ আসায় করোনা নীতিমালা মেনেই দাফন করা হয় এ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে।

বার্ধক্য ও হার্টের সমস্যাসহ শারীরিক নানাবিধ জটিলতা নিয়ে ১৭ নভেম্বর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় আলী যাকেরকে। অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের সিসিইউতে রাখা হয় তাকে। মৃত্যুর দুদিন আগে করোনা পজিটিভ আসে এ অভিনেতার।

১৯৪৪ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এ নাট্য ব্যক্তিত্ব। আলী যাকের ছিলেন চার ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয়। তার বাবা মোহাম্মদ তাহের ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। বাবার চাকরির বদলি সূত্রে অল্পবয়সে কুষ্টিয়া ও মাদারিপুরে কাটান আলী যাকের।

আলী যাকের ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। ওই বছরেরই জুন মাসে তিনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে যোগ দেন। তখন থেকে নাগরিকই তার ঠিকানা। ‘বাকি ইতিহাস’, ‘সৎ মানুষের খোঁজে’, ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘কোপেনিকের ক্যাপটেন’, ‘গ্যালিলিও’, ‘ম্যাকবেথ’সহ অনেক আলোচিত মঞ্চনাটকের অভিনেতা ও নির্দেশক তিনি। পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেও তিনি পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। ‘আজ রবিবার’, ‘বহুব্রীহি’, ‘তথাপি’, ‘পাথর’, ‘দেয়াল’সহ বহু নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন আলী যাকের। বেতারে ৫০টির বেশি নাটক করেছেন তিনি। অভিনয় করেছেন বেশ কিছু চলচ্চিত্রে।

টেলিভিশনের জন্য মৌলিক নাটক লিখেছেন। নানা বিষয়ে দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখিও করেছেন দীর্ঘদিন। প্রকাশিত হয়েছে বই- ‘সেই অরুণোদয় থেকে’, ‘নির্মল জ্যোতির জয়’। শখ করে ফটোগ্রাফিও করেন তিনি।

আলী যাকের নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ফটোগ্রাফিক সোসাইটির পূর্ণ সদস্য। পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদকসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা। মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০১৮-তে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন অভিনেতা আলী যাকের। বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটি গ্রুপের চেয়ারম্যান তিনি। স্ত্রী স্বনামধন্য অভিনয়শিল্পী সারা যাকের, ছেলে অভিনেতা ইরেশ যাকের, ছেলের বউ মিম রশিদ, নাতনি নেহা ও মেয়ে শ্রেয়া সর্বজয়াকে নিয়ে ছিল তার সংসার। সব ছেড়ে আজ সকালে তিনি পাড়ি দেন না ফেরার দেশে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here