আমি এখন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছি: ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া

0
2054

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাম বেগম জিয়ার নামে করতে গেলে তীব্র প্রতিবাদের নেতৃত্ত¡ দিয়েছিলেন ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া। ওয়ান ইলেভের সময়ও গণতন্ত্রের পক্ষে চিকিৎসক হয়ে লড়েছেন। সত্যের পক্ষে লড়াকু হিসেবে তার পরিচিতি। হঠাৎ দূর্নীতির অভিযোগে এই পরিচালক ওএসডি হলে অনেক প্রশ্নের জন্ম হয়। ‘আজ সারাবেলা’ও জানতে চেয়েছে, জিজ্ঞেস করতে চেয়েছে এই অভিযোগের ভেতর-বাহির। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের শেষ পর্ব এটি।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জব্বার হোসেনরবিউল ইসলাম রবি

আজ সারাবেলা: আপনি বলছিলেন আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে বা হচ্ছে। আপনি কী বলবেন এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত?

ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া: আমি প্রায় তিন বছর আগে স্বাচিপের মহাসচিব পদপ্রার্থী ছিলাম। বর্তমান মহাসচিব ডা. আব্দুল আজিজসহ অনেকেই এই পদপ্রার্থী ছিলেন। পরে আমাদের নেত্রী ডা. আব্দুল আজিজকে মহাসচিব, ডা. ইকবাল আরসানালকে সভাপতি ও আমাকে যুগ্ম মহাসচিব করে কমিটি গঠন করে দেন। নেত্রীর আদেশ মাথা পেতে নিই। গত তিন বছরে আমি মহাসচিবের বিরুদ্ধে নেতিবাচক একটি কথাও বলিনি। কোন প্রকারের বিরোধিতাও করিনি। এমনও হয়েছে ইসি মিটিংয়ে তাদের নানা ক্ষতিকর সিদ্ধান্তের সমালোচনা যেন আমাকে করতে না হয় তাই অনেক মিটিংয়ে অংশগ্রহন করিনি। চাইনি আমার কোন কথায় মহাসচিব বা সভাপতি বিব্রত হোক। কিন্তু ডা. আব্দুল আজিজ আমাকে ছাড়েননি। তিনি আমার বিরুদ্ধে বিষোদগার ও মিথ্যা অভিযোগ এনে বই আকারে নানান দপ্তরে, সংস্থায় ডাকযোগে ও লোক মারফত পাঠিয়েছেন।

আজ সারাবেলা: আপনি স্বাচিপের বর্তমান মহাসচিব ডা. আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলছেন, তার কি কোন তথ্য প্রমাণ রয়েছে আপনার কাছে?

ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া: হয়তো চাক্ষুস কোন প্রমাণ আমি দিতে পারবো না। তবে দালিলিক প্রমাণ আমার কাছে নিশ্চয়ই আছে। আর তার অনেক বক্তব্য শুনলেই বোঝা যায় তিনি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি মহাসচিব আমি যুগ্ম মহাসচিব। তার দায়িত্ব একই কমিটির যুগ্ম মহাসচিবের পক্ষে কথা বলা। কিন্তু তিনি এখনও আমার বিরোধিতা করেই যাচ্ছেন। আমি এতোদিন মুখ খুলিনি। এখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমি এখন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছি।

আজ সারাবেলা: এই ষড়যন্ত্রের কারণ কী বলে আপনি মনে করেন?

ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া: স্বাচিপের নির্বাচন সামনেই। গত বার আমি মহাসচিব হিসেবে শক্তিশালী প্রার্থী ছিলাম। সবাই দেখেছেন আমার জনপ্রিয়তা। এবারের নির্বাচনে জয় নিয়ে শতভাগ নিশ্চিত। তাই মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে দূর্নীতিবাজ বানিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এখানে বলে রাখা দরকার, অনেক দূর্নীতিবাজ ঠিকাদার যাদের অন্যায় আবদার আমি দায়িত্বে থাকাকালীন কোনো সময় রাখিনি। তাদের সাথে ডা. আব্দুল আজিজের ভালো সম্পর্ক রয়েছে, তারাও আমার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। এটা মুখের কথা নয়। অচিরেই এসব অভিযোগ মিথ্য প্রমাণ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

দেখুন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আজকে নতুন নয় ২০১০ সালে গণভবন কোয়ার্টারে থাকাকালীন আমার বেডরুমের জানালা ভেঙ্গে আগুন দেওয়া হয়। অল্পের জন্য স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বেঁচে যাই। জিডি করেছিলাম। কিন্তু আজও জানি না কারা এই হামলা করেছিল। ২০১৪ সালে আমাকে হত্যার জন্য কাফনের কাপড় পাঠানো হয়েছিল। আর ২০১৯ সালে একজন ভাড়াটে খুনি কয়েকবার হত্যা চেষ্টার পর আমাকে পাঠানো একটি চিঠিতে লিখেছিল, ‘আমি দুইবার আপনাকে হত্যা করার জন্য ঘুরে এসেছি। কন্ট্রাক্টের অর্ধেক টাকাও নিয়েছিলাম। চুক্তি ছিল হত্যার পর বাকি অর্ধেক নেবার। কিন্তু আপনার সম্পর্কে জানতে পেরে তা আর পারলাম না। আপনি একজন মানবিক, পরোপকারী মানুষ। মানুষের জন্য আপনার বেঁেচ থাকা দরকার। আমি সতর্ক থাকবেন।’

আজ সারাবেলা: বিএমএ নির্বাচনওতো সামনে…

ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া: আমাদের মাননীয় নেত্রী বলেছেন, যারা স্বাচিপের বড় পদে রয়েছে তারা বিএমএ’র বড় পদে আসতে পারবেন না। প্রত্যেকটা সংগঠনেই এটি বলা আছে। আমি দুইবার নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। এখন কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে আছি। সামনের নির্বাচনে বিএমএ অথবা স্বাচিপের সবোর্চ্চ পদে থাকবো বলে চিকিৎসকরা মনে করেন। নেত্রীর উপর আস্থা আমার সবসময়ই। নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই সংগঠন এবং ডাক্তারদের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে বলে আমার বিশ্বাস।

আজ সারাবেলা: আবার দূর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আসি। বলা হচ্ছে আপনার নিউইয়র্কে দুটো বাড়ি আছে। আপনি মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়েছেন। কী বলবেন আপনি?

ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া: আমার বিরুদ্ধে যে অপপ্রচারকারীরা এসব ছড়াচ্ছে এটা নিতান্ত তাদের বিকৃত মস্তিস্ক প্রসুত। এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। নিউইয়র্ক কেন আমারতো ঢাকা শহরেই কোনো ফ্ল্যাট নেই। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। শুধুমাত্র চট্টগ্রামে একটি বাড়ি রয়েছে আমার স্ত্রীর নামে। আমার নিজের শুধু একটি গাড়ি রয়েছে।

আমেরিকা, কানাডা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া অন্যদের হয়তো গাড়ি বাড়ি থাকতে পারে। আমার নয়। আর আমেরিকায় নাগরিকত্বের তো প্রশ্নই ওঠে না।

আমি এই মাটির সন্তান। মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই আমাদের বাড়িতে ছিল। আমিতো বড়ই হয়েছি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ করে। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করেছি। থেকেছি একই আদর্শে- বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে ভক্তি করে। ২১ শে আগস্টের হামলার পর হাসপাতাল হাসপাতাল ছুটেছি সেবা দিতে, চিকিৎসা দিতে। ওয়ান ইলেভেনে নেত্রী গ্রেফতার হবার পর ‘এই আজিজরা’ প্রতিবাদ মিছিল করতে চায়নি। কিন্তু উত্তমরা সেদিন পালিয়ে যায়নি। উত্তমরা পালায় না। সততা আর সাহস নিয়ে থাকে। আমার দেশ শুধু বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুকে বুকে ধারণ করে এই বাংলাদেশেই থাকবো আমি।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/স্বাস্থ্য/জাতীয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here