পবিত্র ইসলাম, একাত্তর টিভি এবং মৌলবাদী ধর্মান্ধ রাজনীতি

0
296

মোহাম্মদ এ. আরাফাত:
একাত্তর টিভিসহ দেশের বেশীরভাগ টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এতদিন ছাত্রলীগের বিপথগামী কিছু ছেলেদের ধর্ষণের ঘটনাগুলো নিয়ে দিনরাত প্রচার করেছে। যদিও, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে অনেকগুলো জঘন্য ও নৃশংস ধর্ষণ এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, তবুও সিলেট এমসি কলেজ ও নোয়াখালী বেগমগঞ্জের দু’টি ঘটনায় ছাত্রলীগের বিপথগামী কিছু ছেলের নাম আসায় সেগুলো নিয়ে অনেক বেশি প্রচার করেছে একাত্তর টিভিসহ সকল মিডিয়া। তখন একাত্তর টিভি ভালো ছিল। আর যখন সার্বজনীন জায়গা থেকে একাত্তর টিভি সকল নিপীড়িত নারীর পক্ষে সত্য তুলে ধরছে, তখন একাত্তর টিভি খুব খারাপ হয়ে গেছে! এই হেপোক্রেটদের আর কত সহ্য করা যায়?

এছাড়াও রাজাকার শাবক পাড়ায় ‘৭১ টিভি’কে বয়কট করার দাবি কেন? এর কারণ হলো, একাত্তর টিভি ধর্ম ব্যবসায়ী ওয়াজকারী ও জামায়াতি ভন্ডদের মুখোশ খুলে দিয়েছে। তাইতো এসব নারী বিদ্বেষী উগ্র ওয়াজকারীসহ বাকি ধর্ম ব্যবসায়ীরা একাত্তর টেলিভিশনের উপর ক্ষিপ্ত। আর ‘একাত্তর’ নামটা তো আছেই। অথচ সত্যিকারের আলেমগণও ধর্মব্যবসায়ীদের বিপক্ষে।

উগ্র কাঠমোল্লারা নারীদের হেয় প্রতিপন্ন করেছে। লেখাপড়া করা, চাকরি করা নারীর কাজ নয়, নারীর কাজ হচ্ছে পুরুষকে তৃপ্তি দেওয়া; এসব নোংরা বক্তব্য কি ইঙ্গিত করে? নারীকে যৌনবস্তু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বিভিন্ন অশ্লীল ওয়াজে। একাত্তর টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম এই সত্য উন্মোচন করেছে তাই একাত্তর টিভি বর্জন করার দাবি ওদের মুখে মুখে। কিছু ধর্মভীরু বোকারা সত্যটা না জেনেই লাফাচ্ছে।

আরেকটি বিষয় খেয়াল করুন। পবিত্র মসজিদকে ব্যবহার করে জমি দখল করা কি ইসলামসম্মত? মসজিদ নির্মান করতে হলেও নির্মান বিধি মেনে তা করা উচিৎ। নির্মান বিধি না মেনে মসজিদ নির্মান করলে, সেই মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া মুসুল্লিদেরই জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকে। কাজেই, নির্মান বিধি মেনে মসজিদ নির্মানের বিরুদ্ধে কথা বলার অর্থ মসজিদের বিরুদ্ধে কথা বলা নয়; এর অর্থ ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে কথা বলা। এই বিষয়টিকে যারা টুইস্ট করে ধর্মবিরোধী বক্তব্য বলে প্রচার করছে এবং ধর্মভীরু সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তারা কারা?

এছাড়াও বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে প্রতিদিন ইসলাম ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন আলেমদের আলোচনা হয়। দর্শকদের মধ্য থেকে ইসলামের বিধি-বিধান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়। যথেষ্ঠ ভাব-গাম্ভীর্যের সাথে এই অনুষ্ঠানগুলো হয়ে থাকে। এই অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোন অশ্লীল কথা বলা কোন ধরনের অশালীন অঙ্গভঙ্গি ইত্যাদি করা হয় না। অন্যদিকে, ওয়াজের নামে যে ভঙ্গিতে কথা বার্তা বলা হয়, মানুষকে উস্কানো হয়, অশালীন অঙ্গভঙ্গি করা হয়, এগুলো দেখে যতটা না ইসলামের প্রসার ও প্রচার করা হয় বলে মনে হয় তার থেকে বেশি লঘু বিনোদন দেয়ার চেষ্টা থাকে বলেই মনে হয়। গণমাধ্যমগুলোতে আলেমগণ যে ভাব-গাম্ভীর্য ও শালীনতা বজায় রেখে ইসলামের বানী প্রচার করেন, সেই ভাব-গাম্ভীর্য ও শালীনতা এই ওয়াজগুলোতে একেবারেই অনুপস্থিত। মনে রাখবেন, জামায়াত ইসলামের বিপক্ষে কথা বলা মানে পবিত্র ইসলামের বিপক্ষে কথা বলা নয়।

জামায়াত ইসলামের মোল্লারা ১৯৭১ সালেও ইসলামের অপব্যাখ্যা করে সাধারন ধর্মভীরু মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করেছিল। কোন লাভ হয়নি। এখনো লাভ হবে না। ইসলাম ন্যায্যতার পক্ষে। পবিত্র ইসলামকে অপব্যবহার করে যারা ব্যবসা করতে চায়, রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চায়, অতীতেও তারা তাতে সফল হয়নি, এখনো হবে না।

লেখক: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/কলাম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here