বাংলাদেশে ধর্ষণের প্রতিবাদে জার্মানিতে প্রবাসীদের মানববন্ধন

0
153

সোহান সিরাজ: বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে জার্মানিতে মানববন্ধন করেছেন প্রবাসীরা। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকালে বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসীরা এই কর্মসূচির আয়োজন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, বৈষম্য আর নিপীড়ন বেড়েই চলেছে। সুশিক্ষার অভাব, ধর্মান্ধতা, আইনের শাসন না থাকা আর ন্যায় বিচারের অভাবে সামাজিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করছে। এ বিষয়ে সরকারকে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তারা বলেন, সভ্য সমাজে এভাবে ধর্ষণ আর নির্যাতন চলতে পারে না। অনেক ধর্ষকই ক্ষমতাসীন দলের লোক কিংবা ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয় পাচ্ছে বলে খবর দেখতে পাচ্ছি। আমরা ক্ষুব্ধ, ব্যথিত, হতাশ! সামাজিক ন্যায়বিচার আর নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সরকার ব্যর্থ!

দেশের এই দুঃসংবাদগুলো সুদূর জার্মানিতে প্রবাসীদের ব্যথিত করে উল্লেখ করে তারা বলেন, ধর্ষণ রোধে সরকারকে সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে। অভিযুক্তদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করে অপরাধী যেইই হোক না কেন তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ব্যবস্থা নিলে আমরাও প্রবাসে যার যার অবস্থান থেকে বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকব।

বক্তারা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা আজ বাংলাদেশে নৈতিত্তিক ঘটনা। পোশাকের কারণে নয়, ক্ষমতার কারণে নারীর প্রতি এই সহিংসতা। পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব সমাজকে বৈষম্যের বিষে ভরে ফেলেছে! সরকার অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে নিপীড়ন বন্ধ হবে না।

তারা বলেন, নারীর প্রতি বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আজ তারা দেশে নির্যাতিত। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ নারীকে শুধু ভোগ্যপণ্যই মনে করে। এই পক্ষপাতিত্বমূলক ব্যবস্থা নারীকে মানুষ হিসেবে বাঁচতে দেয় না। বাংলাদেশে নারীদের সুরক্ষায় সর্বস্তরে শাসন ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে।

প্রবাসীরা বলেন, বাংলাদেশে নির্যাতিতদের পাশে আমরা আছি। প্রবাসে আমরা যার যার অবস্থান থেকে এসব নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ধর্ষণ রোধে সরকারকে অভিযুক্তদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

তারা বলেন, দৃষ্টিভঙ্গি না বদলালে নারী নির্যাতন বাড়বে বৈ কমবে না। সেই সাথে ওয়াজ মাহফিলের নামে দেশে কথিত মোল্লারা ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে নারীর প্রতি যে বিকৃত মানসিকতা তৈরি করছে তা বন্ধ করতে হবে। যৌনতা সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা প্রদানও প্রয়োজন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সৈয়দ বাবুল, সুমনা পারভিন, আজিজুর রহমান আসাদ, জাহিদ কবীর হিমন, শামান রহমান, শাম্মী হক প্রমুখ।

ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে বেশ কিছু জন জার্মানও যোগ দেন। বাংলাদেশে নির্যাতিত নারীদের প্রতি সহমর্মিতা জানান তারা। ধর্ষণ রোধে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তারা আহবান জানান।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/প্রবাস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here