আজ কেমন হবে টাইগারদের একাদশ?

সারাবেলা রিপোর্ট: শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ৬০ রানের হার না মানা ইনিংস উপহার দিয়ে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক মুশফিকুর রহীম। ম্যাচসেরা পারফরমারও এ উইকেটকিপার কাম মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

তার মানে কি দাঁড়ালো ? জয়ের রূপকার একজন ব্যাটসম্যান। ম্যাচসেরা পারফরমারও এক উইলোবাজ। খেলা না দেখা যে কেউ ভাবতে পারেন, তাহলে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতবধ আর টাইগারদের দিল্লি জয় বুঝি ব্যাটসম্যানদের হাত ধরে। আসলে তা নয়।

প্রথম অংশে বোলাররা বিশেষ করে পেসার শফিউল ইসলাম, লেগস্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব আর অফস্পিনার আফিফ হোসেন ধ্রুবই জয়ের ‘প্লাটফর্ম’ তৈরি করে দিয়েছিলেন।

রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, রিশাভ পান্তদের নিয়ে গড়া ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে ১৪০‘র ঘরে বেঁধে রেখেই আসলে জয়ের প্রাথমিক ভিত রচে দেন বোলাররা।

অতিবড় বাংলাদেশ ভক্তও মানছেন-পেসার শফিউল, আল আমিন আর দুই স্পিনার বিপ্লব ও আফিফের সাঁড়াশি বোলিং আক্রমণে ভারত ১৪৮ রানে থেমে গিয়েছিল বলেই জয়ের অনুকূল ক্ষেত্র গড়ে উঠেছিল।

শেষ অবধি মুশফিক, সৌম্য, নাইম শেখ আর মাহমুদউল্লাহরা বোলারদের সেই সাজানো পথে হাঁটায় ধরা দিয়েছে ৭ উইকেটের স্মরণীয় জয়। বোলারদের মাপা বোলিং, ভারতীয়দের ফ্রি শটস খেলতে না দেয়া, যতটা সম্ভব উইকেট সোজা এবং ভালো জায়গায় বেশির ভাগ সময় বল ফেলাটা অনেক কাজে দিয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা ৩ নভেম্বর দিনটি ছিল বাংলাদেশের। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের উইকেটও ছিল টাইগারদের অনুকূলে, একটু স্লো। বল খানিক স্লথ ও থেমে থেমে এসেছে। কখনো সখনো কিছু বল টার্নও করেছে। দেখে মনে হয়েছে, ঠিক যেন শেরে বাংলা কিংবা জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পিচ।

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের টস জয়, প্রথম ফিল্ডিং বেছে নেয়া আর বোলার ব্যবহারে দক্ষতা ও দূরদর্শিতা, বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং সবশেষে মুশফিকের দুর্দান্ত ফিনিশিং, নাইম শেখ, সৌম্য সরকার আর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের ফসল ঐ জয়।

খুব স্বাভাবিকভাবেই খেলা শেষে সবাই মুশফিকের পাশাপাশি পুরো দলের প্রশংসা করেছেন। সবার একটাই কথা, পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী দল সাজানো খুব ভালো হয়েছিল। ঐ উইকেটে যেমন কার্যকর একাদশ দরকার ছিল, ঠিক তেমন দলই মাঠে নেমেছিল।

যে দলটি ঠিক ৭২ ঘন্টা আগে অমন এক সাফল্য পেয়েছে, সেই দলে স্বাভাবিক সমীকরণে পরিবর্তন আসার কথা না। হ্যাঁ, কেউ হঠাৎ করে আহত হলে, ছোট খাট পুরোন সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠলে, মাংস পেশীতে হালকা টান থাকলে কিংবা হ্যামস্ট্রিং-গ্রোয়েন ইনজুরি দেখা না দিলে কিংবা ফিল্ডিং করতে গিয়ে হাতে চোট না পেলে ঐ দলই রাখার কথা।

সর্বশেষ খবর, দলে রদবদল ঘটছেও না। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু আজ সকালে জাগো নিউজকে জানালেন, সবাই সুস্থ আছে। কোন ইনজুরি নেই। তাই আর রদবদলের প্রশ্নই আসে না। প্রথম ম্যাচে যে দলটি খেলেছিল, আজও সেই দলকেই খেলতে দেখা যাবে।

তার মানে, আজও দুই বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম আর আরাফাত সানিকে ড্রেসিং রুম বসে থাকতে হচ্ছে। এই ম্যাচেও সেই আট ব্যাটসম্যান, তিন পেসার ও একমাত্র স্পেশালিস্ট স্পিনার (আমিনুল ইসলাম বিপ্লব) নিয়ে মাঠে নামা।

টাইগারদের সম্ভাব্য একাদশ : লিটন দাস, নাইম শেখ, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, শফিউল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, আল আমিন হোসেন।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/খেলাধুলা

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.