সবই বদলেছে, হলগুলো অপরিবর্তিত: বাপ্পি

সারাবেলা রিপোর্ট: ২০১২ সালের এই দিনে (৫ অক্টোবর) মুক্তি পায় ‘ভালোবাসার রঙ’। এ ছবিটির মাধ্যমে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে অনেক নতুন পর্ব যুক্ত হয়।

বলা হয়, এটিই প্রথম কোনও ছবি যার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হয় দেশীয় চলচ্চিত্রের ডিজিটাল অধ্যায়। নির্মাণ তো বটেই, প্রেক্ষাগৃহগুলোর ডিজিটাল ইকুইপমেন্ট প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়াও শুরু হয় এই ছবিটির দৌলতে। ছবিটির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় প্রযোজনা-পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার অভিষেক হয়। আরও বড় বিষয়, ছবিটির মাধ্যমে দর্শকরা দীর্ঘদিন পর খুঁজে পান দুই নতুন মুখ। তারা হলেন বাপ্পি ও মাহি। যে দুজন গেল সাত বছরে ধারাবাহিক সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন চলচ্চিত্রে।

বাপ্পি চৌধুরীসাত বছর আগে ‘ভালোবাসার রঙ’ মুক্তি ও আশাতীত সফলতার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, বাংলা চলচ্চিত্রের ডুবন্ত জাহাজ আবার বুঝি ভেসে উঠলো! কারণ, দীর্ঘদিনের পুরনো মুখ আর অন্ধকার ফরমেটের বাইরে গিয়ে নতুন আলো দেখা গেল এই ছবিটির মাধ্যমে।
ছবিটি মুক্তির সাত বছর পেরিয়ে ৮ বছরে পা রাখার এই দিনে (৫ অক্টোবর, ২০১৯) প্রসঙ্গটি তুলতেই নায়ক বাপ্পি’র কণ্ঠে মুগ্ধতার স্বর। বললেন, ‘‘ডুবন্ত জাহাজ ভেসে উঠেছে। এটা একেবারেই সত্যি কথা। ২০১২ সালের আগে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কী ছিল সেটা পুরনো ফাইল ঘাঁটলেই পেয়ে যাবেন। পুরো ইন্ডাস্ট্রি তখন অন্ধকারে ডুবে ছিল। যেটাকে বলে দিগভ্রান্ত অবস্থা। আমি নিজেও তখন দর্শক ছিলাম। সেটি থেকে উত্তরণের পথ মিলেছে জাজ মাল্টিমিডিয়া তথা আবদুল আজিজ ভাইয়ের ডিজিটাল চলচ্চিত্র কেন্দ্রিক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে। দেখুন, দেশের প্রতিটি হল এখন ডিজিটালাইজড। এটা সম্ভব হয়েছে জাজ মাল্টিমিডিয়ার উদ্যোগ আর ‘ভালোবাসার রঙ’ ছবিটির সফলতার সূত্র ধরেই। ভাবতে ভালোই লাগে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র আধুনিকায়নের এই ইতিহাসের সঙ্গে আমার নামটাও আছে।’

কিন্তু ডুবন্ত জাহাজ ভেসে ওঠার পর সেটি কতটা গতি পেল? নাকি একই স্থানে নোঙর করে পড়ে রইলো- সেটিও তো হিসেবের বিষয়। এমন জিজ্ঞাসার বিপরীতে নায়ক বাপ্পি এবার খানিক প্রতিবাদী। বললেন, ‘‘বিষয়টা তো আসলে পুরো ইন্ডাস্ট্রির। শুধু জাজ মাল্টিমিডিয়া, শুধু ‘ভালোবাসার রঙ’ বা শুধু মাহি-বাপ্পি’র নয়। শুরুটা আমরা করেছি। খুবই ভালো শুরু। এখন তো আমরা ডিজিটালের বাইরে কিছু ভাবতেও পারি না। অথচ এই ডিজিটাল ছবি নির্মাণ ও মুক্তি নিয়ে আমাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। অনেক প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয়েছে। বলতে পারেন, শতভাগ অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে আমরা শুরুটা করেছি। বিষয়টা তখন এমন ছিল, ডিজিটাল ছবি নির্মাণ করে আমরা চলচ্চিত্রটাকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি! অথচ আবদুল আজিজ ভাই তখন জনে জনে বলেছিলেন, ডিজিটাল সিনেমা ছাড়া আমাদের সামনে এগুনোর আর কোনও পথ নেই। কারণ, আন্তর্জাতিকভাবেই থার্টি-ফাইভ ফিল্ম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যাই হোক, সেই যুদ্ধ জয়ের পর আমাদের সিনেমার ডুবন্ত জাহাজটা ভেসে উঠলেও গতি পায়নি। আমি তো মনে করি, পড়ে আছে একই স্থানে। কারণ, আমাদের সব বদলেছে, শুধু হলগুলো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে আজও। একজন চলচ্চিত্রকর্মী হিসেবে এটা বেদনার, হতাশার, পরাজয়ের।’

তার মানে বাপ্পি বলতে চাইছেন, খাবার সুস্বাদু, গরম গরম। কিন্তু ডাইনিং টেবিল, প্লেট আর গ্লাসের অবস্থা খুব খারাপ! দেশের সিংহভাগ হলের পরিবেশ আসলেও তা-ই। ভালো মানের ছবি হচ্ছে কিন্তু প্রেক্ষাগৃহ রয়ে গেছে এখনও ৯০ দশকে। চাহিদার বিপরীতে গড়ে উঠছে না সিনেপ্লেক্সও। ছবি সুপারহিট হলেও লাভের গুড় চলে যাচ্ছে অন্যের পকেটে। সমাধান কী?

প্রযোজক আবদুল আজিজের সেলফিতে বাপ্পি ও অন্য তারকারা জবাবে বাপ্পি বলেন, ‘এখানে অনেক ফ্যাক্টর আছে। মূলত সেসব কারণেই জটলাটা খুলছে না। আমরা সবাই বিষয়গুলো জানি। কিন্তু কেউ কিছু বলছি না, করছিও না। তবে আমি এটুকু স্পষ্ট করে বলি, আমাদের বর্তমান ইন্ডাস্ট্রির প্রধান সমস্যা একটাই, ই-টিকিটিং সিস্টেম না থাকা। এটাও কিন্তু ডিজিটাল সিনেমা সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যেটি গত সাত বছরেও সম্ভব হয়নি।

প্রযোজক আবদুল আজিজের সেলফিতে বাপ্পি ও অন্য তারকারা|

কারণ, সিনেমার লাভের গুড় যাদের পকেটে যায়, তারাই মূল বাধা। ই-টিকিটিং সিস্টেম চালু করতে পারলে আরেকটি রেভ্যুলেশন হবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে। এটা ছাড়া সিনেমার হিট-ফ্লপ, স্টার-সুপারস্টার- এসব বায়বীয় তকমার আসল চিত্র বেরিয়ে আসবে না।

কিন্তু বেড়ালের গলায় সেই ঘণ্টাটা বাঁধবে কে? এমন প্রশ্নের উত্তর হয়তো শিগগিরই মিলবে, অন্য কারও উদ্যোগে। সাত বছর আগে সবার বিপরীতে দাঁড়িয়ে যেভাবে উদ্যোগ নিয়েছিলো জাজ মাল্টিমিডিয়া।

‘ভালোবাসার রঙ’ ছবির জন্য স্বাক্ষর দিচ্ছেন মাহি ও বাপ্পি, পেছনে অমিত হাসানএদিকে ‘ভালোবাসার রঙ’ মুক্তির ৭ম বর্ষপূর্তির এই দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্মৃতিকাতর পোস্ট দিয়েছে জাজ মাল্টিমিডিয়া, নায়ক বাপ্পি ও নায়িকা মাহি।

জাজ মাল্টিমিডিয়ার ফেসবুক পেজে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে ছবিটি তৈরির পুরো প্রক্রিয়া ও প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরা হয়েছে বুলেট পয়েন্টের মাধ্যমে। মাহিয়া মাহি সাত বছর আগে ‘ভালোবাসার রঙ’-এর সাইনিং অনুষ্ঠানের একটি ছবি পোস্ট করেন।

অন্যদিকে বাপ্পি চৌধুরী সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লেখেন, ‘‘আমি ছিলাম অতি সাধারণ একটা ছেলে। চিত্রনায়ক বাপ্পির জন্ম হতো না যদি ২০১২ সালের আজকের দিনে ‘ভালোবাসার রঙ’ মুক্তি না পেতো। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমার জন্মদাতা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া ও আবদুল আজিজ ভাই এবং পরিচালক শাহীন সুমন ভাইয়ের প্রতি। তারা আমার রুপালি পর্দার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। তাদের কাছে আমি আজীবনের জন্য ঋণী। কৃতজ্ঞতা আবদুল্লাহ জহির বাবু ভাইয়ের কাছেও। উনি আমার জন্য যা করেছেন তা ভোলার নয়। কৃতজ্ঞ আমার বন্ধু মাহির প্রতি। আজকের দিনে আরও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমার সকল দর্শক, ভক্তদের। তাদের ভালোবাসায় এ পথচলা সহজ হয়েছে।

‘ঢাকা ২০৪০’ ছবির ঘোষণা অনুষ্ঠানে পরিচালক ও দুই নায়িকার সঙ্গে বাপ্পি চৌধুরী|

বাপ্পি চৌধুরীর দুটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় আছে এখন। একটি ‘শ্বশুড়বাড়ি জিন্দাবাদ- টু’, অন্যটি ‘ডেঞ্জার জোন’। শুটিং চলছে দীপঙ্কর দীপনের ছবি ‘ঢাকা ২০৪০’-এর। এতে বাপ্পির বিপরীতে আছে নুসরাত ইমরোজ তিশা ও নুসরাত ফারিয়া।

আজ সারাবেলা/সংবাদ/সিআ/বিনোদন

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.