বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি এবার মালিবাগ ক্যাডেট কেয়ার স্কুলে

সারাবেলা প্রতিবেদক: বছরব্যাপী দেশজুড়ে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘আজ সারাবেলা’ ও ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’।

আজ বৃস্পতিবার সকালে তাদের ৫৮ তম কার্যক্রমটি ছিল রাজধানীর মালিবাগ ক্যাডেট কেয়ার স্কুলে। সেখানে উপস্থিত ছিল প্রায় পঞ্চাশ জন শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানে ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’ এর পরিচালক ও ‘আজ সারাবেলা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কানতারা খান শিক্ষার্থীদের বলেন, আজ তোমাদের সঙ্গে গল্প করব। গল্পে গল্পে জানবো, নিজের দেশ, বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশকে।

কানতারা খান শুরুতেই শিশু কিশোরদের হাতে চকলেট দিয়ে শুরু করেন ইতিহাসের গল্প, মুক্তিযুদ্ধের বয়ান। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের নানা প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন স্কুলটির ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর গল্প বলছেন কানতারা খান।

ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধুর কোন ছবি নেই কেন? আসলে ভাষার জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছিল ১৯৪৮ সালে। পশ্চিম পাকিস্থান থেকে যখন বলা হয়েছিল ‘উর্দু এন্ড উর্দু শ্যাল বি দ্যা স্টেট লেগুয়েজ অব পাকিস্থান’। তখন প্রথম প্রতিবাদ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু এবং তখনই প্রথমবার আটক করা হয়েছিল তাকে। এর পর আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারন করে। ৫২’র ২১ শে ফ্রেরুয়ারির আগে তাকে আবারও আটক করা হয়। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় প্রায় ১৪ বছর জেলে ছিলেন তিনি। শুধুমাত্র দেশ ও দেশের মানুষের জন্য আন্দোলন, প্রতিবাদ করায়।

১৯৭১এর ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালীর উপর হত্যাযজ্ঞ চালালো। সে সময় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ২৫ শে মার্চ রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে বঙ্গবন্ধুর রেকর্ড করা স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ ও ২৭ মার্চ দিনভর প্রচার করা হয়। মূলত ৭ই মার্চের ভাষণের পর থেকেই বাঙালিদের যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়।

২৬ শে’র সকালে পৃথিবীর প্রায় ৮ থেতে ৯টা দেশের জাতীয় দৈনিকে শিরোনাম হয়েছিল ‘মুজিব ডিক্লিয়ারস ইন্ডিপেন্ডেনসি’।

তিনি আরও বলেন, বাংলা এবং বাঙালিকে সবসময়ই সর্বোচ্চ মর্যাদায় স্থান দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু এ জাতির সবচেয়ে বড় বেদনার জায়গা ৭৫’র ১৫ই আগস্ট। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কিছু পথভ্রষ্টদের হাতে খুন হতে হলো। হত্যা করল পরিবারের সবাইকে, তারা মায়া করেনি ৮ বছরের রাসেলকেও।

জার্মানীতে থাকায় বেঁচে আছেন তার দুই কন্যা। পরিবারের সবাইকে হারিয়েও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশকে, বিশ্ব দরবারে আত্মমর্যাদাশীল করে দাঁড় করিয়েছেন বাংলাদেশকে। সমুদ্রের তলদেশে থেকে মহাকাশ পর্যন্ত জয় করেছে বাংলাদেশ-বঙ্গবন্ধু কণ্যার হাত ধরেই।

তিনি আরো বলেন, আজ তোমরা যে মোবাইল ফোন চালাও, ইন্টারনেট ব্যবহার কর সেটা সম্ভব হয়েছে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কারনে। সুতরাং আজকে যে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার ঐতিহাসিকভাবে এদেশের মানুষের পাশে আছে, সেবা করে আসছে, আমরাও ভালো বাসবো তাদের, যারা আমাদের ভালোবাসে।

আজকের অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘আজ সারাবেলা’র সম্পাদক জববার হোসেন।

আয়োজিত কার্যক্রমের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড।

আজসারাবেলা/সংবাদ/সিআ/মুক্তিযুদ্ধ/শিক্ষা/রাজধানী

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.