কানাডায় আবারও জয়ী জাস্টিন ট্রুডো

সারাবেলা রিপোর্ট: কানাডার ৪৩তম জাতীয় নির্বাচনে আবারও জয়ী হয়েছে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি। ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারা। তবে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সংখ্যালঘু হিসেবে ক্ষমতায় যেতে হবে লিবারেল পার্টিকে।

নির্বাচনে ট্রুডোর লিবারেল পার্টি ১৫৬ আসনে জয়লাভ করেছে। মোট ৩৩৮টি আসনের নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য তার দলকে কমপক্ষে ১৭০টি আসনে জয়লাভ করতে হতো। আর মাত্র ১৪ আসনের জন্য লিবারেল পার্টি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রুডোকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো আইন পাস করতে বেশ বেগ পেতে হবে।

এই নির্বাচনে ট্রুডোর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল কনজারভেটিভ পার্টির অ্যান্ড্রু শের। নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হলেও প্রথম থেকেই এগিয়ে ছিল লিবারেল পার্টি। ভোটের ফলাফল দেখে জানা যায় লিবারেল পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ১২২ আসন। গতবারের নির্বাচনে তারা ৯৫ আসনে জয়ী হয়েছিল।

নির্বাচনে জয়ের পর মন্ট্রিলে সমর্থকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো বলেন, আপনারা এটা করে দেখিয়েছেন আমার বন্ধুরা। আপনাদের স্বাগত। যারা তাকে ভোট দিয়েছেন তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।

বিরোধী কনসারভেটিভ পার্টি ভোটের আগে ট্রুডোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুটি কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনে। ফলে নির্বাচনে ট্রুডোকে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে।

চার বছর আগে সত্যিকারের পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে বিশাল এক বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন জাস্টিন ট্রুডো।

২০১৫ সালে ট্রুডো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের সময় তার মন্ত্রিসভায় নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণের কারণে বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হয়েছিলেন। যা তার দলের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বলে তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন।

‘কারণ এটা ২০১৫ সাল’ স্মিত হেসে এমন মন্তব্য করেছিলেন প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসা এই প্রধানমন্ত্রী। তার এই তিনটি শব্দ সে সময় সারা বিশ্বে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী এবং লিবারেল পার্টির সাবেক নেতা পিয়েরে ট্যুডোর সন্তান জাস্টিন ট্রুডো। বাবার দেখানো পথেই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সোমবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মন্ট্রিলে ভোট দেন ট্রুডো। গত চারদিন ধরে সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণায় বেশ গতিশীল দেখা গেছে তাকে। অপরদিকে নিজের নির্বাচনী জেলা সাস্কাটচেওয়ানে ভোট দেন শের।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/আন্তর্জাতিক

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.