শেখ হাসিনা দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন: লে.জে.(অব.) মাহবুবুর রহমান

লে.জে.(অব.) মাহবুবুর রহমানবিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। সাবেক সাংসদ। সাবেক সেনাপ্রধান। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। রাজনীতি থেকে সরে আছেন দীর্ঘদিন। বিএনপি’র রাজনীতির প্রতি বিতশ্রদ্ধা, বর্তমান সরকারের মূল্যায়ণ, বিএনপি’র রাজনীতির ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক অবক্ষয়-অনেক প্রসঙ্গেই কথা বলেছেন তিনি আজ সারাবেলা’র সঙ্গে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জব্বার হোসেনসিদ্দিক আশিক

আজ সারাবেলা: আপনি প্রবীণ রাজনীতিবিদ। কিন্তু অনেক দিন রাজনীতির মাঠের বাইরে। যদি বলেন, কী করে আপনার এখনকার সময় কাটছে?

লে.জে.(অব.) মাহবুবুর রহমান: আমি এখনো রাজনীতি বুঝে ওঠতে পারিনি। রাজনীতি অনেক জটিল, কঠিন। রাজনীতির প্রতি আমি অনেকটা বিতশ্রদ্ধ। এখানে বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। মানুষকে চিনবার উপায় নেই। একজনের একটি মুখোশ নয়, অনেকগুলো মুখোশ। আমি সাংসদ ছিলাম। সেনা প্রধান ছিলাম। যে দলটির সঙ্গে ছিলাম, তারাও সংগঠিত নয়। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়। ফলে সবকিছু মিলিয়ে আমি আগ্রহ হারিয়েছি। নিজের মতো দিনযাপন করি। বই পড়ি। ছবি দেখি। অবসর সময় কাটাচ্ছি বলতে পারেন। এক অর্থে রাজনীতি থেকে অবসরই নিয়েছি।

আজ সারাবেলা: আপনি যে দলটির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন বা আছেন সেই দল বিএনপি’র ভুল বা দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে পেরেছেন?

লে.জে.(অব.) মাহবুবুর রহমান: সবচেয়ে বড় দুর্বলতা নেতৃত্ব। নেতৃত্ব নেই। এক ধরণের অবসাদ এসে গেছে। বেগম জিয়া জেলখানায়। তাকে আর কেউ চেয়ারপার্সন বলছেন না। তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন। কিন্তু তিনি দেশের বাইরে। যে কোন সরকারই বিরোধী দলকে প্রতিহত করবে, বাধা দিবে। কিন্তু নিজেদের রেজিস্ট্যান্স যদি না থাকে তবে তা ভেঙ্গে যাওয়াই স্বাভাবিক। বিএনপির দেশে তেমন কোন কার্যক্রম নেই। দেশের বাইরেও আন্তর্জাতিক সমর্থন হারিয়েছে।

আজ সারাবেলা: বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ অনেক ধরণের অভিযোগ রয়েছে। দেশে এবং বিদেশের আদালতেও তা প্রমাণিত। তারেক রহমান সম্পর্কে আপনি কোন মন্তব্য করবেন?

লে.জে.(অব.) মাহবুবুর রহমান: তারেক রহমান তো দেশেই আসছেন না। তাকে তো দেশে আসতে হবে। হ্যাঁ, দেশে আসলে জেল জরিমানা হবে। নেতা হতে গেলে এটাতো তাকে ফেস করতে হবে। এটা ফেস না করেতো নেতা হওয়া অসম্ভব।

আজ সারাবেলা: বর্তমান সরকার নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

লে.জে.(অব.) মাহবুবুর রহমান: শেখ হাসিনা দক্ষার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। বঙ্গবন্ধু অনেক বড় মানুষ ছিলেন। কিন্তু তিনি তো বেশি সময় পাননি। তাকে আততায়ীরা হত্যা করেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা অনেক দিন ক্ষমতায় ফলে তিনি উন্নয়নের জন্য একটা ভালো সময়ও পাচ্ছেন। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, রূপপুর প্রকল্প এমন অনেক দৃশ্যমান উন্নয়ন হচ্ছে। সরকার আন্তর্জাতিকভাবেও নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পেরেছে। চায়না এবং ভারত দুজনই এখন বাংলাদেশের বন্ধু। এটাও কম বড় অর্জন নয়। বানকি মুন বাংলাদেশ সম্পর্কে খুব ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। তাছাড়া সরকারকে বিরক্ত করবার মতো কোন বিরোধী দল নেই, সেটাও উন্নতির শর্ত পূরণে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

লে.জে.(অব.) মাহবুবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

আজ সারাবেলা: উন্নয়নচিত্রের পাশাপাশি আরেকটি দৃশ্য রয়েছে। খুন, হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, গণধর্ষণ-নতুন উপদ্রব। এই নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের সঙ্কট ও সমাধানের কী পথ খোলা আছে বলে আপনি মনে করেন?

লে.জে.(অব.) মাহবুবুর রহমান: খবরের কাগজ খুললে আমি চমকে উঠি। এমন ধর্ষণ, গণধর্ষণের খবর আগে কখনও দেখিনি। এখন শিশুও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। সরকারের অগ্রগতিকে ম্লান করে দিচ্ছে এমন সব ঘটনা। তার মানে বুঝতে হবে এখানে দুষ্ট লোক, খারাপ লোক সুযোগ পাচ্ছে, সুবিধা পাচ্ছে। সেটা অর্থের কারণে হোক বা ক্ষমতার কারণে। আমি তো মনে করি নৈতিকতা, মানবিকতার উন্নয়নে এখন আন্দোলন প্রয়োজন। মানবিক মানুষ যদি তৈরি না হয় তাহলে উন্নতি হলেও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।

আজ সারাবেলা: আবার রাজনীতির প্রসঙ্গে আসি। বিএনপি’র রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আপনি কী দেখেন?

লে.জে.(অব.) মাহবুবুর রহমান: বিএনপি নিয়ে আমি আশাবাদের কিছু দেখি না। এটা হয়তো আমার অক্ষমতা। আমি বাস্তববাদী মানুষ, অলীক স্বপ্নে বিশ্বাস করি না। নেতৃত্ব শূণ্য একটি রাজনৈতিক দল কখনও এগিয়ে যেতে পারে না। জিয়াউর রহমানের যে আদর্শ, মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ছিল দলটি সেখান থেকে যোজন যোজন দূরে। হয়তো কোনদিন জিয়াউর রহমান নতুনভাবে মূল্যায়িত হলে নতুন করে দলটি জাগবে।

আজ সারাবেলা: আপনি তো হতাশার কথা বলছেন। কিন্তু আমরা আশাবাদের কথা শুনতে চাই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আশাবাদের জায়গাটি কোথায়?

লে.জে.(অব.) মাহবুবুর রহমান: আমি আশাবাদের আশায় হতাশার কথা বলছি। তরুণরাই তো আশাবাদ, তারাই তো আগামী। তরুণদের জাগিয়ে তুলতে হবে, বলতে হবে, বোঝাতে হবে। দেশ সবার আগে। রাজনীতির ক্ষুদ্র স্বার্থ, দলীয় স্বার্থ বাদ দিয়ে সবাই মিলে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। সবার আগে বাংলাদেশ, ভালোবাসতে হবে দেশকে।

আজসারালো/সাক্ষাৎকার/রই/সংবাদ

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.