মেয়েরা বউ হয়, মা হয় কিন্তু এসব একটাও তার পরিচয়কে প্রতিষ্ঠিত করে না: এশা আহমেদ

মুখোশের উপর মুখোশ। কখনো হিংস্র বাঘের, কখনো ধূর্ত শেয়ালের, কখনো নেহাত ভালো মানুষের। একেক সময় একেক মুখোশ পড়ি আমরা। নিজের চেহারাটা আড়ালেই থাকে। মেয়েটা উপরের দিকে তাকিয়ে আছে, পাখিদের দিকে। মানুষ যত ছদ্মবেশ, মুখোশই পড়–ক না কেন শেষবধি সে মুক্ত স্বাধীন মানুষ হিসেবেই বাঁচতে চায়। যদিও আশৈশব সে শেখে, তুমি যা, তা তুমি প্রকাশ করো না- নিজের আঁকা ছবি সম্পর্কে এমন ব্যাখ্যাই দিচ্ছিলেন ২৩তম জাতীয় আর্ট এক্সিবিশনে অংশ নেয়া তরুণ শিল্পী এশা আহমেদ। এশা’র আরো একটি পরিচয় রয়েছে, তিনি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী চম্পার একমাত্র কন্যা।

মা অভিনেত্রী চম্পার সঙ্গে শিল্পী এশা আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

আজ সারাবেলা’র সঙ্গে আলাচারিতায় যদিও ‘চম্পার মেয়ে’ কিংবা ‘কুতুব উদ্দিন আহমেদের পুত্রবধু’ এমন কোন পরিচয়েই তিনি প্রতিষ্ঠিত হতে চান না বলে জানিয়েছেন। এশা চান নিজের পরিচয়। সাহসের সঙ্গে স্পষ্টভাবে বলেন, দেখুন, মেয়েরা বউ হয়, মা হয় কিন্তু এসব একটাও তার নিজের পরিচয়কে প্রতিষ্ঠিত করে না। এর ওর হওয়ার মধ্যে কোন সার্থকতা নেই। মহান স্রষ্টা আমাকে যে সৃষ্টি করেছেন, কিছু না কিছু তো আমাকেও করতে হবে এবং অবশ্যই সেটা নিজের যোগ্যতায়। চম্পা, ববিতা, সুচন্দা আমার মা, খালা কিন্তু তাদের পরিচয়ে তারা পরিচিত। আমি বরাবরই চেয়েছি, আমার নিজের যোগ্যতায়, নিজের ভালো লাগায় কিছু একটা করি। ছবি আঁকার বিষয়টির প্রণোদনা অনেকটা সেখান থেকেও বলতে পারেন।

তবে শিল্পী এশা আহমেদের ছবি আঁকা শুরু আরো অনেক আগে থেকে। সেই যখন স্কলাস্টিকার ছাত্রী, তখন থেকেই ছবি দেখতে ভালো লাগতো তার। পারিবারিক যোগাযোগ ছিল শিল্পী শাহাবুদ্দিন আর এস এম সুলতানের সঙ্গে। সেখান থেকে শেখারও শুরু। তবে হাতেখড়িটা শিল্পী ফারিহা জেবা আর সাঈদুল হক জুইস এর হাত ধরে।

নিজের আঁকা চিত্রকর্মের পাশে শিল্পী এশা আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল আর ভূটানের মতো অনেক দেশের আর্ট এক্সিবিশনেই এশা সুনাম কুড়িয়েছেন। নিজের ছবির বিশেষত্ব কী জানতে চাইলে, এশা বলেন, আমি সুরিয়েলিজম ধারায় কাজ করি। মানুষের যে দ্বান্দিকতা তা আমাকে স্পর্শ করে। মানুষ যা চায় না তা করে, আবার যা চায় তা করে না। আমার ছবিতে আবেগ, আমার চিন্তা সবকিছু তুলে ধরি। ছবি আমার কাছে কখনো গান, কখনো নাটক, কখনো কবিতা আবার কখনো ছবি। ছবি কখনোই শুধু ছবি নয়।

ছবি নিয়ে তার আগামী পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে বলেন, এখন এক্রেলিকে কাজ করছি, প্রিন্টিং এ কাজ করতে চাই। চাই আরো কঠিন কিছু করতে। সহজ পথে আমার হাটতে ভালো লাগে না কখনোই। আগামী এশিয়ান আর্ট বিয়েনেলে অংশগ্রহণ করতে পারাটা হবে আমার জন্য বড় পাওয়া। একটা প্লাটফর্মও করতে চাই, যেখানে নতুন আর পুরনো সবাই এসে ছবি আঁকবে।

শিল্পী এশার আঁকা চিত্রকর্ম। ছবি: সংগৃহীত

এশা খুবই স্পষ্টভাষী। নিজের সম্পর্কেও সচেতন। বাহুল্য তার ভালো লাগে না। পরিমিতিবোধ অসম্ভব প্রখর, এশার ছবিতেও তা বোঝা যায়। তবে বিখ্যাত মা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, চম্পার মেয়ে হবার পরও অভিনয় না করে কেন আঁকাআঁকির জগতে ডুবলেন এমন প্রশ্নের জবাবে এশা বলেন, আমি একেবারেই অভিনয় করতে পারি না। এমনকি বাস্তব জীবনেও না। বানিয়ে বানিয়ে অভিনয় করে কিছু বলা আমার একেবারেই হয়ে ওঠে না। অন্যকে খুশি করবার জন্য আমি বাড়তি কিছু করতে পারি না। আমি যা, আমি তা-ই। হয়তো আমি খুবই সাধারণ। একজন এশা-ই।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/সাক্ষাৎকার/শিল্প-সাহিত্য

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.