ফেসবুক ভেঙে দেওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান

সারাবেলা রিপোর্ট: বিশ্বের বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুককে তিনটি পৃথক কোম্পানি হিসেবে ভাগ করার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকের সহ–প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস হিউজ সম্প্রতি এ আহ্বান জানান। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ফেসবুক।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা দেশটির বিচার বিভাগের কাছে ফেসবুকের বিরুদ্ধে ‘অ্যান্টি–ট্রাস্ট তদন্ত’ চালানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ফেসবুক এখন সুবিশাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ফেসবুককে নিয়ন্ত্রণ করতে ও ভেঙে ফেলতে এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গের ওপর চাপ বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রকেরা তথ্য বিনিময় করার চর্চা, ঘৃণিত বক্তব্য ও ভুয়া খবর ছড়ানো ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতা বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে ফেলার পাশাপাশি ফেডারেল প্রাইভেসি আইনের কথা তুলছেন।

ক্রিস হিউজ মার্ক জাকারবার্গের কলেজের সহপাঠী। তাঁরা একই ঘরে থাকতেন। নিউইয়র্ক টাইমসে তিনি একটি দীর্ঘ মতামত লিখেছেন। এতে তিনি মার্ক জাকারবার্গের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং একক আধিপত্যের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।

বর্তমানে ফেসবুকের ২৪০ কোটির কাছাকাছি ব্যবহারকারী রয়েছেন। এর বাইরে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রামের মতো সেবা রয়েছে। প্রতিটি সেবার ক্ষেত্রে ১০০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী রয়েছেন। ২০১২ সালে ইনস্টাগ্রাম ও ২০১৪ সালে হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নেয় ফেসবুক।

মার্ক হিউজ বলেন, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামকে পৃথক কোম্পানি করা হোক।

হিউজের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিতে বলেছে। আজ শুক্রবার ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ফ্রান্সে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে আলোচনা করবেন।

ফেসবুকের মুখপাত্র নিক ক্লেগ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সফলতার সঙ্গে দায়িত্ববোধের বিষয়টি গ্রহণ করে ফেসবুক। সফল একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে টুকরো করে দায়িত্বশীলতা চাপিয়ে দিতে পারে না। ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায় নেওয়ার বিষয়টি অর্জন করতে হবে। এটাই জাকারবার্গ বলছেন।’

২০০৪ সালে হার্ভার্ডের ডরমেটরিতে মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র অ্যাডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিজ ও ক্রিস হিউজ মিলে ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৭ সালে ফেসবুক ছেড়ে দেন হিউজ। পরে এক লিংকডইন পোস্টে তিনি জানান, তিন বছরের কাজের জন্য ৫০ লাখ ডলার পান তিনি।

হিউজ বলেন, ‘১৫ বছর আগে হার্ভার্ডে থাকতে ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। এরপর এক দশকের বেশি সময় আমি এর সঙ্গে নেই। কিন্তু আমার মধ্যে রাগ ও দায়িত্ববোধের অনুভূতি রয়েছে।’

২০১৬ সাল থেকে প্রাইভেসি ও ভুয়া তথ্যের কেলেঙ্কারিতে ফেসবুক জড়িয়ে পড়ার পর থেকে বড় পদের কয়েকজন কর্মকর্তা ফেসবুক ছেড়েছেন। এর মধ্যে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিষ্ঠাতারাও আছেন।

ফেসবুক ব্যক্তিগত মেসেজিংকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার সময় গত মার্চ মাসে জাকারবার্গের ঘনিষ্ঠ প্রধান পণ্য কর্মকর্তা ক্রিস কক্স ফেসবুক ছেড়ে দেন।

ফেসবুকের কেলেঙ্কারি নিয়ে সমালোচনা থাকলেও এর মূল ব্যবসা কিন্তু ঠিক আছে। গত দুই প্রান্তিকে আয়ের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।

হিউজ বলেছেন, ফেসবুকে প্রাইভেসি বা অন্য যেকোনো ত্রু টির কারণে জাকারবার্গকে দায়ী করতে হবে।

এর আগে ডেমোক্রেটিক সিনেটর রন ওয়াইডেন বারবার প্রাইভেসি লঙ্ঘনের কারণে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের দায়ী করার কথা বলেন।

সম্প্রতি রিপাবলিকানদের কাছ থেকেও একই সুর উঠেছে। ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকানের কয়েকজন সিনেটর ফেসবুকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সমঝোতার সমালোচনা করছেন। তাঁরা বলছেন, ফেসবুকের কঠোর শাস্তি আর তাদের ব্যবসায়িক চর্চায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হোক।

হিউজ বলেছেন, ২০১৭ সালের গ্রীষ্মে তিনি জাকারবার্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর কিছু পরেই কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার মতো কেলেঙ্কারি মুখে পড়ে ফেসবুক।

হিউজের ভাষ্য, জাকারবার্গ ভালো ও দয়ালু মানুষ। কিন্তু আমি তাঁর নিরাপত্তা বিসর্জন দিয়ে ক্লিকের আশায় ব্যবসা ফুলিয়ে–ফাঁপিয়ে তোলার লক্ষ্যের ওপর রাগ দেখাচ্ছি।

হিউজের সমালোচনার জবাবে ফেসবুকের সাবেক নিউজফিড বিভাগের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি বলেছেন, নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার জন্য প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেওয়ার সঙ্গে একমত নই। সম্মত থাকলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

আজ সারাবেলা/সংবাদ/সিআ/বিজ্ঞান- প্রযুক্তি

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.