বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে নৌকার মাঝি হতে চান অর্ধ ডজন, জাপার আছেন ওমর
ফখরুলের আসনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা

সারাবেলা রিপোর্ট: বেজে চলেছে বগুড়ার সংসদ উপনির্বাচনের খবর। বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণার পর থেকে বগুড়ার সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। কেন্দ্র থেকে শুরু করে ভোটারদের কাছে ও দলীয় নেতা-কর্মীসহ সবখানেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন উপনির্বাচনের প্রার্থীরা।

রমজান মাসেও থেমে নেই প্রার্থীরা। নানা কৌশলে আর নানাভাবে নির্বাচনের খবরাখবর পৌঁছে দিচ্ছেন ভোটারদের কাছে। বিএনপির ঘাঁটিখ্যাত এই আসনে কে হবেন ধানের শীষের প্রার্থী তা নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিলেও নৌকার মাঝি হতে মাঠে নেমেছেন অর্ধ ডজন প্রার্থী। আর মহাজোটের প্রার্থী হয়ে পরাজিত হলেও আবারও উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়ে বগুড়া সদর আসনের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চান জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন মোটর শ্রমিক নেতা সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু। বগুড়া জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
৩০ এপ্রিলের মধ্যে শপথ না নেওয়ায় এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। বগুড়া সদর আসন শূন্য ঘোষণার পর থেকেই উপনির্বাচনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘…প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই’ এমন পোস্ট করেন নেতা-কর্মীরা। সর্বশেষ ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণার পর নড়েচড়ে বসেছেন প্রার্থীরা। দলীয় হাইকমান্ডে লবিংসহ ভোটারদের পক্ষে টানতে কাজ শুরু করেছেন একাধিক প্রার্থী। প্রার্থী হতে আগ্রহীদের পক্ষে মনোনয়ন পেতে চলছে নানা কৌশলে দৌড়ঝাঁপ। তবে আওয়ামী লীগ থেকে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও বিএনপি এ আসনে উপনির্বাচন বিষয়ে মুখ খুলছে না। বগুড়া-৬ (সদর) আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির দখলেই ছিল। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বর্জন করায় মহাজোটের প্রার্থী জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সর্বশেষ বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পরাজিত হন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শেষ পর্যন্ত শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি ২৪ জুন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করা হলে বগুড়া সদর আসনে প্রার্থী হতে একাধিক নেতা-কর্মী মাঠে নামেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন মোটর শ্রমিক নেতা সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু। তিনি শ্রমিক সংগঠন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, তরুণ শিক্ষার্থী, ভোটার ও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নিজেকে তুলে ধরছেন এবং নিজের জন্য দোয়া কামনা করছেন। বগুড়া-৬ সদর আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক পৌর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের তিন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, টি জামান নিকেতা, মঞ্জুরুল আলম মোহন, জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের ছেলে বগুড়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলন। তবে এ মুহূর্তে তিনি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন। ব্যবসায়ী নেতা, ক্রীড়া সংগঠক, এফবিসিসিআইর পরিচালক মাসুদুর রহমান মিলনের নামে জেলা শহরে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মী সাইনবোর্ড, ফেস্টুন, ব্যানার ঝুলিয়েছেন। ইতিমধ্যে তার প্রার্থিতার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টি থেকে বিগত দুটি নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি নুরুল ইসলাম ওমর মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি এ আসনে জাপার একক প্রার্থী এবং মহাজোটের মনোনয়ন তিনিই পাবেন বলে নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু জানান, তিনি এর আগে বগুড়া পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে উন্নয়ন কাজ করেছেন। উপনির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে প্রত্যাশা করেন। বগুড়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলন বলেন, তার বাবা দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি থেকে তিনি বগুড়ার উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। এটি বগুড়াবাসী জানে। কিন্তু তিনি কখনো সংসদ সদস্য হননি। আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে থেকেছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। তিনি আজ নেই। বগুড়ার উন্নয়ন এগিয়ে নিতেই মিলন নৌকা প্রতীকে ভোট করতে ইচ্ছুক। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচিত হবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। বগুড়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক জানান, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখাসহ বগুড়ার উন্নয়ন এগিয়ে নিতে উপনির্বাচনে প্রয়াত জেলা সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের ছেলে ক্লিন ইমেজের ব্যবসায়ী নেতা, সংগঠক মাসুদুর রহমান মিলনের বিকল্প নেই। সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম ওমর বলেন, ‘বিগত পাঁচ বছর সংসদ সদস্য হিসেবে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়ন পৌঁছে দিয়েছি। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আবারও মনোনয়ন চাইব।’ বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ভিপি সাইফুল ইসলাম উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

আজসারাবেলা/সংবাদ/সাআ/জাতীয়

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.